সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বৃষ্টির অভাবে সেচযন্ত্র চালু করে আমন ধান রোপণের শুরুতে নেমে আসে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। আর পানি নিষ্কাশনে অচলাবস্থার কারণে নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ধান বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
জানা গেছে, আমন ধানের চারার বয়স বেড়ে যাচ্ছে। বেশি বয়সের ধানের চারা রোপণ করলে ফলন ভালো হয় না। এ দিকে মাঠে প্রয়োজনীয় পানি নেই। পানির অভাবে কলারোয়ার চাষিরা সেচ প্রকল্প চালু করে আমন ধান রোপণ শুরু করে। সেচ প্রকল্প চালু করে ধান রোপণের ২-৩ দিনের মধ্যে কলারোয়ায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ৫-৬ দিন কখনো মুষলধারে কখনো রিমঝিম বৃষ্টি, মাঝে মধ্যে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছে। কিন্তু পানি যাওয়ার পথ বন্ধ করে মাছের ঘের তৈরি, রাস্তাঘাট নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন পথ, খাল, নদী দখল করে চাষাবাদ ও ঘের করায় আটকে পড়ে বৃষ্টির পানি। এতে উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া, রুদ্রুপুর বিল, দাড়কি বিল, মুরারীকাটি বিল, লোহাকুড়া বিল, দেয়াড়া কাজির বিল, ক্ষেত্রপাড়া বিল, মাদরা বিল, জাহাজমারি বিল, বাটরা বিল, গোচমারা বিল, গাজনা বিল, কাউরিয়া বিল, দাকোপ বিল, তুলসীডাঙ্গা বিল, কুশোডাঙ্গা বিল, ঢাপা বিল, জয়নগর বিলসহ অর্ধশতাধিক বিলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ করা আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে ২-১ দিনে মধ্যে ধান জেগে উঠবে এবং কোনো ক্ষতি হবে না বলে কৃষকরা জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ্রাংশ শেখর পানি নিষ্কাশনে অচলাবস্থার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি না পেলে ২-১ দিনের মধ্যে পানি কমে যাবে এবং কোনো ক্ষতি হবে না।

নাঙ্গলকোটে টানা বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে জনজীবনে চরম বিপর্যস্ত নেমে এসেছে। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িঘরে এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাটে পানি উঠে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে যাচ্ছেন না। খেটে খাওয়া মানুষেরা কাজ করতে না পারায় তাদের পরিবারের সদস্যরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে ফসল, রাস্তাঘাট এবং বাড়িঘরে পানি উঠেছে। নষ্ট হয়ে গেছে জমিনে লাগানো আমন ধানের চারা ও শাক-সবজি। ভেসে গেছে মৎস্য প্রজেক্ট ও পুকুর ডোবার মাছ। হাটবাজারগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় চলাচল বিঘি্নত হচ্ছে। গ্রামীণ কঁাঁচা সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এ দিকে বৃষ্টির কারণে উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী জলাঞ্চলখ্যাত বাঙ্গড্ডা, রায়কোট উত্তর, দক্ষিণ, মৌকরা, ঢালুয়া, বক্সগঞ্জ, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি উঠেছে। পাশাপাশি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর খানাখন্দে পানি জমে জনসাধারণের চলাচলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নাঙ্গলকোট পৌর বাজার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, বেচাবিক্রি প্রায় বন্ধ। মিজানুর রহমান নামে এ মৎসচাষি জানান, তার প্রজেক্টের মাছগুলো ভেসে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, দ্রুত পানি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কলাপাড়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষকের মানববন্ধন
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়া ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের খাপড়াভাঙ্গা গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মানববন্ধন করেছেন। গতকাল শনিবার খাপড়াভাঙ্গা গ্রামে জলকপাটসংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচিতে কৃষকরা জানান, পাউবোর ৪৭/৪ নং পোল্ডারের দক্ষিণ খাপড়াভাঙ্গায় নির্মিত জলকপাট দিয়ে বর্ষা মৌসুমে ১০-১৫ হাজার হেক্টর জমির পানি নিষ্কাশন সমম্ভব না। তাই বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বীজতলাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতিছাড়াও মাছের ঘের তলিয়ে যায়।
কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুরানো ছোট জলকপাট ভেঙে বড় একটি জলকপাট নির্মাণ করলে কৃষকরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষকের স্বার্থে সরেজমিনে গিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।