চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দী হয়ে দুর্বিষহ জীবন পার করছে প্রায় চার হাজার পরিবার। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি তারা। গত ১০ বছরের মধ্যে এবারের বৃষ্টিতে বেশি পানি দেখা গেছে। বেকার সময় পার করায় কষ্টে রয়েছেন দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া শত শত মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার, জয়পুর পূর্বজোয়ার, কাটাগাং, বরইয়া, হাবিলদারবাসা, হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আজমনগর, পূর্ব হিঙ্গুলী, বারইয়ারহাট পৌরসভার জামালপুর, মিরসরাই পৌরসভার গোভনিয়া, পশ্চিম মিরসরাই, জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড়, খিলমুরারী, ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট, সাহেবদীনগর কাটাছরা ইউনিয়নের রহমতাবাদ, খৈয়াছরা ইউনিয়নের ফেনাফুনি, পশ্চিম খৈয়াছরা, মায়ানী ইউনিয়নের সৈদালী, ওসমানপুর ইউনিয়নের মরগাং, আজমপুর, পাতাকোট এলাকার প্রায় চার হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।
মিরসরাই পৌর সদরের ভ্যানচালক আলমগীর জানান, টানা তিন দিনের বৃষ্টির কারণে কোনো ভাড়া হয়নি। এক টাকা ইনকাম হয়নি। পরিবার নিয়ে কষ্টের শেষ নেই।
পশ্চিম খৈয়াছরা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে পানি থই থই করছে। মানুষের চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছরার পানিতে চলাচলের সড়ক ভেঙে যাওয়ায় অনেকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হয়েছে।
এ দিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহামায়া লেকের পানি সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থান করছে। কৃত্রিম বাঁধ সৃষ্টির পর গত ১৪ বছরেও পানির এমন বৃদ্ধি দেখেনি কেউই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে পানির উচ্চতা বাড়লেও বাঁধ ভাঙা বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে অতিমাত্রায় পানি বৃদ্ধির কারণে মহামায়া লেক এলাকার বিভিন্ন পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন লেক সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, উপজেলার নিম্নাঞ্চলকে পাহাড়ি ঢলের পানি থেকে রক্ষা এবং শুকনো মৌসুমে চাষাবাদের লক্ষ্যে ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে সরকারের পাউবো মহামায়া ছরার ওপর বাঁধ তৈরি করে মহামায়া সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এরপর সেখানে ১১ বর্গ কিলোমিটার কৃত্রিম লেকের সৃষ্টি হয়, যা বর্তমানে চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি পায়।
সরেজমিন মহামায়া এলাকায় গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মহামায়া লেকের পানি অনেক বেড়েছে। এতে বাঁধের দক্ষিণ অংশের ওভার ফ্লো হয়ে পানি উপচে পড়ছে। মহামায়া ইকো-পার্কের ইজারাদার এরাদুল হক ভূট্টু জানান, গত ১৪ বছরে মহামায়ার পানির এত উচ্চতা আমরা দেখিনি। আপাতত পর্যটক ঢোকা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুলে দেয়া হবে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান, পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে। তবে বাঁধ ভাঙার মতো আশঙ্কা নেই। কারণ অতিরিক্ত পানি নিচে প্রবাহিত হওয়ার জন্য মূল স্লুইসগেট ছাড়াও বাঁধের দক্ষিণ পাশে ওভার ফ্লো গেট রয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহান শাহ্ নওশাদ জানান, মহামায়া লেকে নিচুভাগে নানা ধরনের ময়লা আবর্জনা এবং মাটি জমাট হয়ে লেকের স্তর পলিতে ভরে উঠায় পানির উচ্চতা বেড়েছে। ভূমিধসের আশঙ্কা থাকলেও বৃষ্টি কমে যাওয়ায় মনে হচ্ছে এমনটি হবে না।



