কোটাসংস্কার আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদকে গুলি হওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। তারা হলেন তাজহাট মেট্রোপলিট থানার এএসআই আমির হোসেন এবং কনেস্টবল সুজন চন্দ্র রায়।
গতকাল শনিবার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো: মনিরুজ্জামান জানান, তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেটের সামনে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের বাইরে কাজ এবং কর্তব্য পালনে অবহেলার কারণে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরো জানান এর আগেই গত ১৭ তারিখে আমির এবং ২৮ তারিখে সুজন চন্দ্রকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছিল। চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এ ঘটনায় পুলিশের মামলায় সাঈদকে শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেলে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্বজন, শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ। ঘটনার ১৮ দিন পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো। এ ঘটনার পুলিশের করা মামলার আমির হোসেনকে ১২ ও সুজনচন্দ্র রায় ১৮ নম্বর সাক্ষী করেছিল পুলিশ। ওই মামলার এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে চলছে এখন আন্দোলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুলিকারী পুলিশের নাম ইউনুস বলা হলেও সেটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, শুধু সাময়িক বরখাস্ত করলেই হবে না; তাদেরকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটা যেন আইওয়াশ বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য না হয়। তাহলে হিতে আরো বিপরীত হবে। তিনি বলেন, অনেক আগেই এটা করা উচিত ছিল। কিন্তু এখনো মামলার এফআইআর পরিবর্তন করে পুলিশ কর্তৃক হত্যার ঘটনা লেখা হয় নাই। দ্রুত এটি করতে হবে। নইলে পুলিশ যে মানুষের কাছে আস্থার সঙ্কটে পড়েছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবে না।



