কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বেড়ে গেছে মাছ ধরার যন্ত্রের চাহিদা। সময় এখন বর্ষাকাল। চলতি সপ্তাহে থেমে থেমে চলছে ঝুম বৃষ্টি। গ্রাম বাংলার মানুষের চিরচেনা চিত্র খাল-বিলে জমতে শুরু করেছে পানি। চারিদিকে থৈ থৈ করছে বৃষ্টির পানি। তাই মাছ ধরতে বেড়েছে বাঁশ-বেত দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা কারিগরদেরও। দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি কয়েকটি মাছ ধরার ফাঁদের নাম হলো হলো চাঁই, টইয়া ও পলো, ঘুনি ইত্যাদি। ঝিলে ও বিলে পানি জমতেই এসব উপকরণের কদরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
মাছ শিকারের জন্য বছরের দু’টি সময় এসব উপকরণের বিক্রি বেড়ে যায়। যখন খালে-বিলে পানি কমে যায় আর যখন বর্ষা শুরু হয় তখনো মাছ ধরার জন্য বিক্রি বাড়ে।
এক সময় ঘুনি, চাঁই ও পলো দিয়ে মাছ ধরার প্রচলন ছিল বেশি। মাছ ধরার এসব ফাঁদ ঘুনি, চাঁই, দোয়াড় ও পলো তৈরি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। এক একটি আটলী ২৫০-১০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ঘুনি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। প্রতিটি চাঁই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। শহরের কামিল মাদরাসা রোডে মাছ ধরার চাঁই, টইয়া ও পলো, ঘুনি বিক্রির হাট বসে।

গত শনিবার চৌগাছা বাজারে মাছ ধরার যন্ত্র কিনতে আসা মহেশপুর উপজেলার জাগুসা গ্রামের বাদল মণ্ডল বলেন, তাদের এলাকার টিপির বিলে নিয়মিত মাছ ধরেন তিনি। বর্ষার পানি বেড়ে যাওয়ায় আরো কিছু ঘুনি ও চাঁই কিনতে এসেছেন।
চৌগাছা উপজেলার মাড়–য়া গ্রামের এনামুল, শহরের কুটিপাড়া এলাকার শহিদুল, ইলিশমারি গ্রামের শাহাজান জানান, বর্ষার নতুন পানিতে দেখা মিলছে বিভিন্ন জাতের দেশী মাছ। মাছ ধরা তাদের নেশা। তাই মাছ ধরার জন্য ঘুনি-চাঁই কিনতে এসেছেন।
মাছ ধরার যন্ত্র বিক্রেতা সবুজ হোসেন জানান, বাঁশের তৈরি মাছ ধরার যন্ত্র আগের মতো বিক্রি হয় না। তবে বর্ষাকালে কিছুটা বিক্রি বাড়ে। এসব তৈরির উপকরণ বাঁশ, বেতের দাম বেড়ে যাওয়া এবং তৈরির মজুরিও বেশি পড়ায় মাছ ধরার যন্ত্রের দামও বেশি। তিনি বলেন, দাম বেশি হলেও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাছ ধরার যন্ত্র বেচা বিক্রি বেড়েছে।