সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিক্ষুব্ধ জনতা কুপিয়ে প্রতাপনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ জাকির হোসেনকে হত্যা করেছে। এর আগে জাকির হোসেনের ছোড়া গুলিতে দুইজন নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সোমবার বিকেল পৌনে ৫টা থেকে রাত পৌনে ৮টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত শেখ জাকির হোসেন (৫৩) সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নাকনা গ্রামের মৃত আমিনুর রহমানের ছেলে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত অপর দুইজন হলেন, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়া গ্রামের ওয়ারেজ আলী মোড়লের ছেলে হাফেজ আনাজ বিল্লাহ (২১) ও একই ইউনিয়নের নাকনা গ্রামের নুর হাকিম ঘোরামীর ছেলে আদম আলী। আহতদের মধ্যে প্রতাপনগর গ্রামের ছাত্তার সরদারের ছেলে আলমগীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী বলেন, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কয়েক শ’ লোক মিছিল নিয়ে নাকনা গ্রামের জাকির চেয়াম্যানের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জাকির চেয়ারম্যানের বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি (জাকির) বাড়ির দোতালা থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০-১২ জন আহত হন। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন।
এ দিকে আহতদের চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে হাফেজ আনহাজ বিল্লাহ ও আদম আলী মারা যায়। পরে তাদের লাশ গ্রামে ফিরিয়ে আনলে বিক্ষুব্ধ জনতা জাকিরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। একপর্যায় রাত পৌনে ৮টার দিকে তারা জাকিরের বাড়িতে ঢুকে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলে।