দীর্ঘ ১৬ বছরের এক স্বৈরশাসনের অবসান হলো বলে আনন্দ উল্লাস ও আল্লাহর দরবারে সিজদায় শুকরিয়া জানান যুবকরা। গণভবনের ভেতরের সবুজ মাঠে সিজদায় গিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। মুনাজাত করে বলে আল্লাহ তুমি একজন জালেম শাসকের হাত থেকে দেশটাকে বাঁচালে। আমার পরিবারকে সে ধ্বংস করেছে। কত মায়ের বুক খালি করেছে। পারভেজ ও মাহে আলম এসেছে পল্লবী থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাসভবন বা গণভবনে। চোখেমুখে আনন্দ উল্লাস। অনেক তরুণী ও তাদের মাও এসেছিলেন।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী কোটা আন্দোলনের রাবেয়া বলেন, এখানে তো কখনো আসতে পারতাম না, আজ তাই আসলাম দেখতে কি এমন আছে ভেতরে। গণভবনে আসা লাখো জনতা সেখানকার খাট, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, আলমিরা, টেবিল, মুরগি, হাঁস, ফুলের টব, কাপ-পিরিচ, পুকুরের চিতলমাছ, ফ্যান, এয়ারকন্ডিশন, চেয়ার, টেবিল, শাড়ি, কার্পেট, রান্না করার হাঁড়ি-পাতিল, ড্যাগচি, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস, চালের বস্তা, আটার বস্তাসহ যা পেয়েছে নিয়ে গেছে। দুপুর দেড়টার পরই সংসদভবন ওই লেন দিয়ে লাখো জনতার ঢল। হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে স্লেøাগান পালিয়ে গেল হাসিনা। শহীদ সাঈদের রক্ত বৃথা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। সাথে ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা। দেশ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মিছিল নিয়ে হাজারো মানুষ গণভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। দুপুর ২টায় সেনা প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন এমন খবর দেশের মিডিয়াতে প্রচার হওয়া মাত্রই মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরায় সাধারণ মানুষ সড়কে নেমে আসে। যখন প্রচার হলো সেনাপ্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন তখনই জনতার ঢল প্রথমে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে রোকেয়া সরণী হয়ে গণভবনের দিকে রওনা হয়। আরেকটি মিছিল মিরপুর একনম্বর হয়ে মিরপুর রোড দিয়ে গণভবনের দিকে এগোতে থাকে। ইতোমধ্যে গণভবনের নিরাপত্তার জন্য রাখা সামরিক সমরাস্ত্রগুলো ও বেরিকেড সরিয়ে ফেলা হয়। তবে পশ্চিমের গেইট বন্ধ ছিল। সংসদ ভবনের সামনের বা দক্ষিণের প্রবেশ পথ দিয়ে জনতার প্রবেশের ঢল নামে। সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া দুটো যান ও সেনা সদস্যরা জনতার ঢল দেখছিল। জনতা সেনা সদস্যদের সাথে কোলাকুলি করে, তাদের অভিনন্দন জানায় ও তাদের সাথে ছবি তোলে।
বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবণের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করে। পুকুরের মাছগুলো তুলে নিয়ে যায়। আখের ক্ষেত থেকে আখ তুলে নেয়। ডাটার ক্ষেত থেকে ডাটা তুলে নেয়। বিভিন্ন সিসি ক্যামেরা, লাইটও খুলে নিয়ে যায়। কিছু জনতা ও যুবকরা ওয়াল টপকিয়ে সংসদ ভবনেও প্রবেশ করে উল্লাস করতে থাকে।
নওগাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমন্ত্রী পলক আমার অঞ্চলের ছেলে। আমাদের দেশের যুবসমাজের ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে ধ্বংস করেছে। তার বিচার করতে হবে। যারা আমাদের সন্তানদের ভাইদের খুন করেছে তাদের বিচার করতে বলবেন। আগে সেই বিচার তারপর রাষ্ট্রক্ষমতা।
কাজীপাড়া থেকে আসা আসমা বেগম (৪০) বলেন, চোরের মতো পালাতে হলো। মায়ের বুকগুলো খালি করেছে। তার পরিণতি লেজ গুটিয়ে দেশ ছাড়তে হলো। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে।



