কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘দুর্দান্ত প্রতাপশালী ক্ষমতাধর স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগ দেশে-বিদেশে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিল এরা উগ্রবাদী। ধার্মিকদের আওয়ামী নিষ্ঠুর সরকার উগ্রবাদী বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল। এরা দেখাতে চেয়েছিল যে, বাংলাদেশে উগ্রবাদ আছে, উগ্রবাদী আছে। এটা দমন করার জন্য শুধু তাদেরই দরকার। এটাই হচ্ছে তাদের মূল উদ্দেশ্য এবং সেটা দেখাতে চায় পশ্চিমা বিশ্বকে, ভারতকে। এখন সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে যে, উগ্রবাদী আওয়ামী লীগ, উগ্রবাদী ছিল আওয়ামী নিষ্ঠুর স্বৈরাচার সরকার। তারা সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাস-উগ্রবাদ চাপিয়ে দিয়ে হত্যা করেছে, ধ্বংস করেছে, তাদের সব নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, বিশ্ব বরেণ্য নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে কাডগড়ায় দাঁড় করিয়ে তার সম্মান হানি করেন। রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। তিনিই মহা-পরাক্রমশালী যিনি যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমতা দান করেন আবার যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী স্বৈরশাসকের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আর ম্লান হতে দেবে না। এই দ্বীপ্ত শপথে এখনো রাজপথে দেখা যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরুণ সাহসী বীর যোদ্ধাদের। তাদের সাথে প্রথম থেকে বিএনপি ছিল আছে, থাকবে।’
এ দিকে, বৃহস্পতিবার উখিয়া সদর ষ্টেশনে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের যানজট মুক্ত করতে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেন ছাত্ররা। তারা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে ভূমিকা রাখেন। এসব দেখে সাধারণ মানুষ বলছেন, থানা, সাব-রেষ্ট্রি অফিস, ভূমি অফিসসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরে ঘুষের অবৈধ লেনদেন বন্ধে এবং দেশ পুনর্গঠনে ছাত্রদের এমনি করে এগিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটার সাথে সাথে উখিয়ার রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বিএনপির অফিস ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় শঙ্কিত ছিল সাধারণ মানুষ।
গেল বৃহস্পতিবার রাতে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণের পরেই পাল্টে যায় উখিয়ার চিত্র। দোকানপাট খুলছে যান চলাচল স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠেও শান্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্কিত পরিস্থিতি এড়াতে ছাত্র-জনতা এগিয়ে এসেছেন।
ছাত্র-জনতা বলছে, সেনাবাহিনীকে সাথে পাওয়ায় ছাত্র-জনতার শক্তির কাছে অপশক্তি দাঁড়াতে পারবে না। উখিয়া হবে শান্তি ও নিরাপত্তার শহর। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা কেউ নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। তবে ছাত্র-জনতাও সতর্ক থাকবে। কেউ যেন শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে।
সু-শাসনের জন্য নাগরিক সুজনের উখিয়া উপজেলা সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কোনো ধরনের সঙ্ঘাত-সহিংসতা বরদাশত করবে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকার দেশের জনগণের আস্থার সরকার। তাই এই সরকারের কাছে মানুষের চাওয়াও বেশি।’



