বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ চায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবি গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ও ছাত্রদলের। তবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সকল রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের রাজনীতি বন্ধের দাবিতে একমত পোষণ করেছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দলীয় লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতির দৌরাত্ম্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো যৌক্তিক দাবি উঠলেও সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ক্যাম্পাসে এই ছাত্ররাজনীতির দাপট দেখিয়ে ছাত্র নেতারা হল দখল করে, চাঁদাবাজি করে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলা ও নির্যাতন করে। আর এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘিœত করে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬% শিক্ষার্থী মনে করে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকা উচিত নয়। মাত্র ২% শিক্ষার্থী মনে করে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকা উচিত। লিংকার্স ইন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এক ভোটে মোট তিন হাজার শিক্ষার্থী ভোট প্রদান করেন।
সারা দেশে ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তন কিংবা সংস্কার দেখা যায়নি। এসবের পেছনে শিক্ষার্থীরা অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, শত শত শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা বিজয়-২৪ পেয়েছি। আমরা চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক জ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্র। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকুক মধুর সম্পর্ক। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনীতি সবচেয়ে বড় বাধা। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিরতরে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, সমন্বয়কদের মধ্যে একটি অংশ তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি-দাওয়া প্রশাসনের কাছে তুলতে পারছে না।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সিবাদ আহম্মেদ বলেন, আমরা দলীয় লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে। ক্যাম্পাসে সুষ্ঠুধারার সংস্কারমূলক ছাত্র রাজনীতির চর্চা হোক সেটা আমরা চাই।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি মো: রেজা শরীফ বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু সংস্কারমূলক ছাত্ররাজনীতির পক্ষে। যে ছাত্ররাজনীতি হল দখল করবে না, চাঁদাবাজি করবে না, সর্বোপরি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ চায় বিষয়টা কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত কয়েক যুগ ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি হয়েছে তার জন্য শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ যাচ্ছে। কিন্তু আমরা এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সুস্থ ধারার রাজনীতি চালু করতে চাই, আশা করি সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো আপত্তি থাকবে না।