মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১২ আগস্ট) ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘণ্টা কলেজ ক্যাম্পাস ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধীতাকারী ও স্বৈরাচারী সরকারের পৃষ্ঠপোষক অ্যাখা দিয়ে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। একপর্যায়ে তারা কলেজের সবকটি কক্ষ ও অফিস রুম তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে সকল শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে সম্মতি জানিয়ে কলেজে থাকা শিক্ষকরাও স্মারকলিপিতে স্মাক্ষর করেন।

আন্দোলনরত কয়েক শ’ শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তারা বলেন, ‘সিপার উদ্দিন যতদিন, ক্লাস বর্জন ততদিন, এক দফা এক দাবি, অধ্যক্ষের পদত্যাগ, ছাত্রীবৃন্দ এক হও, অধ্যক্ষকে বিদায় দেও, স্বৈরাচার বিদায় দেও, কে দিবে শিক্ষা, যার নাই দীক্ষা, তুই একটা স্বৈরাচার, এই মুহূর্তে কলেজ ছাড়, দাবি মোদের একটাই, স্বৈরাচার মুক্ত কলেজ চাই’।

এ সময় শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষক হয়ে তিনি শত শত শিক্ষার্থীর বুকে রক্ত ঝড়েছে এর প্রতিবাদ না করে রাজপথে মিছিল দিয়ে আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে উসকিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন তাহলে রাজপথে আমরা শুয়ে পড়ব, গাড়ি আমাদের বুকের ওপর দিয়ে যাবে। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তবে এর দায়-দায়িত্ব সিপার উদ্দিনকে নিতে হবে।’

এ সময় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাহ গিয়াস উদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষকরা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, মেয়র সিপার উদ্দিনকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই কলেজের শিক্ষকদের। গভর্নিং বডি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিয়েছেন। তোমাদের দাবি-দাওয়া আমরা কলেজ গভর্নিং বডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

‘আমরা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে নই, আমরা চাই তোমাদের দাবি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেনে নেয়া হবে। তোমাদের দাবির বিষয়টি ইউএনও ও সেনাবাহিনীর মেজরকে জানিয়েছি। প্রশাসনিকভাবে তোমাদের দাবির বিষয়টি আলোচনা করা হবে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরাসরি বিরোধিতা করেন সিপার উদ্দিন আহমদ। তিনি গত ১৮ জুলাই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘কোটা আন্দোলন ছিনতাই হয়ে গেছে, কোটা আন্দোলন হাইজ্যাক করেছে বিএনপি জামায়াত।’