কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ রিফাত আহাম্মেদকে একবারের জন্যও দেখতে যেতে পারেননি তার বাবা-মা। গত ৫ আগস্ট ঢাকার সাভারে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো: রিফাত আহাম্মেদ (২৫)। ছেলের আহত হওয়ায় বাবা আহাম্মেদ শরীফ ও মা কাজল আহাম্মেদ মুষড়ে পড়েছেন।
রিফাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেডের একচালা ছোট্ট একটি ঘর। সেই ঘরেই রিফাতের পরিবারের সদস্যদের বসতি। বাড়িটির সামনে পৌঁছতেই ভেতর থেকে নারীকণ্ঠে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে প্রতিবেশী এক নারী বাড়ির ভেতরে গিয়ে রিফাতের মাকে ডেকে আনেন।
বাড়ির বাইরে আলাপকালে রিফাতের মা বলেন, রিফাতের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শোনার পর থেকে তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মুখে কোনো দানাপানি নিচ্ছেন না। এতে তিনি আরো দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাকে এখনো রিফাতকে দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়নি।
স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ৫ আগস্ট এনাম মেডিক্যালের সামনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন রিফাত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রিফাতের শরীরে চারটি গুলি লাগে। এর মধ্যে একটি গুলি লাগে তার বুকে। গত ৮ আগস্ট তার শরীরে অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন।
রিফাতের বাবা আহাম্মেদ শরীফ দিনমজুরি করে সংসার চালান। দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে রিফাত সবার বড়। তার ছোট ভাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এক বোন মানসিক প্রতিবন্ধী।
রিফাতের মা কাজল আহাম্মেদ ডুকরে ডুকরে কেঁদে বলেন, ‘ছেলের বুকে গুলি লাগছে। হাসপাতালের বেডে কাতরাইতাছে; কিন্তু ছেলের পাশে একবারের জন্যও যেতে পারিনি। কতই না কষ্ট পাচ্ছে ছেলেটা। কতই না আর্তনাদ করছে। এমন কষ্ট আল্লাহ যেন আর কাউকে না দেন।’
রিফাতের বাড়ির পাশের বড় ভাই, রিয়াদ বলেন, রাসেলের বাবা একেবারে গরিব মানুষ তিনি নিজেও অসুস্থ। দিনমজুরি করে কোনোরকমে সংসার চালান।



