দিনটি ছিল ১৯ জুলাই শুক্রবার। চলছে ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার আন্দোলন। এরই মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য নরসিংদী প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে বেলা পৌনে ৩টায় ভর্তি হয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শে হাতে স্যালাইন নিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় উত্তর পাশে বসে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন। এমন সময় হঠাৎ সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় রেহেনার মাথার নিচে বাম পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে সামনের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে তার।
অবস্থা জটিল দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে; কিন্তু যাবেন কিভাবে। সমগ্র ভেলানগর থমথমে, ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোথাও গাড়ি নেই। দীর্ঘক্ষণ পর রাত ১০টায় তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরের দিন ২০ জুলাই শনিবার ভোর ৪টায় রেহেনা সিজারের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তিনি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর উত্তরপাড়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম রাব্বির স্ত্রী। বর্তমানে রেহেনা বেগম পুলিশের গুলির ক্ষত নিয়ে বাড়িতে সন্তানসহ দুঃসহ দিন যাপন করছেন।
রেহেনার স্বামী জহিরুল ইসলাম রাব্বি জানান, স্ত্রী হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার অবস্থা খুবই জটিল ছিল। আল্লøাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। গুলির ক্ষত নিয়ে তিনি কষ্টে দিন পার করছেন।