বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের ইমন হাসানের লাশ গত রোববার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আহত হওয়ার ১৩ দিন পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
ইমনের নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন তার ছোট ভাই হাফেজ মোহাম্মদ সুমন। জানাজায় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কায়সারুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার গোলাম সবুর, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন, ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলুসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা-উপজেলার সমন্বয়করা অংশ নেন।

গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইমন। পরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৬ আগস্ট তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার সকাল ৫টায় মৃত্যুবরণ করেন।
ইমন নলিন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ভূঞাপুরের অলোয়া মনিরুজ্জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করে গোপালপুরের হেমনগর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। নিজের পড়াশোনার খরচ ও সংসারের হাল ধরতে টাঙ্গাইলের এক চাচার বাসায় থেকে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে টিউশনি করাতেন। তিনি ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।