১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারো বন্যার কবলে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের বেশিরভাগ এলাকার কয়েক শ’ পরিবার। রাতভর অতি বৃষ্টির কারণে প্লাবিত হয়েছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। এতে প্লাবিত এলাকাসমূহের বিপুল সংখ্যক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রেগুলোতে আশ্রয় গ্রহণ করতে থাকে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পানি বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি আরো বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবারের বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকায় স্বস্থিতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে বাড়ি ফিরছিল আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো। কিন্তু আবার বুধবার রাতের অব্যাহত বৃষ্টির ফলে আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে আবারো পাহাড়ি ঢলে চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীরবর্তী এলাকাসমূহ মঙ্গলবারের চেয়েও বেশি প্লাবিত হয়। চেঙ্গী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষ বির্পযয়ের মুখে পড়ে।

পৌরসভার গঞ্জপাড়া, মুসলিম পাড়া, মেহেদীবাগ, শান্তিনগর, অপর্ণা চৌধুরী পাড়া, রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলীসহ আরো কয়েক গ্রাম পুরোপুরি পানির নিচে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার।

ইতোপূর্বে কখনো খাগড়াছড়ি শহর প্লাবিত না হলেও বৃহস্পতিবারের বন্যায় শহরের বেশ কয়েকটি সড়ক ও এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন জানান, এ ধরনের বন্যা খাগড়াছড়িবাসী গত ১৫ বছরেও দেখে নাই। এবার শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও পানি উঠে গেছে যা ইতোপূর্বে কখনো ঘটেনি।

এদিকে, ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মাইনী নদীর পানি বেড়ে দীঘিনালার মেরুং, বোয়ালখালি ও কবাখালি ইউনিয়নের ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে বেশ কয়েকটি সড়কসহ কৃষি জমি ও পুকুর পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এছাড়াও মঙ্গলবার বিকেল থেকে সাজেক সড়কের কবাখালি, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসহ একাধিক অংশ পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে সড়কটিতে পর্যটকবাহী যানবাহনসহ সকল ধরনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক ডুবে যাওয়ায় সাজেকে বেড়াতে এসে আটকা পড়েছে কমপক্ষে ২৫০ পর্যটক।

এদিকে, পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের হেড কোয়ার্টার এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ার রাঙামাটির লংগদুর সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবে গেছে মেরুং বাজার।

মেরুং ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ঘনশ্যাম ত্রিপুরা বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এরইমধ্যে মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রের নিচ তলা তলিয়ে গেছে। সেখানে আশ্রয় নেয়া ২৯টি পরিবারকে বিদ্যালয় ভবনের দ্বিতীয় তলায় তুলে দেয়া হয়েছে।’

এদিকে বন্যা মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেডক্রিসেন্টের কয়েকটি দল, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার সরবরাহসহ উদ্ধার তৎপরাতায় এসব সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়।

খাগড়াছড়ির পৌরসভার প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, ‘বন্যা দুর্গতদের জন্য ১২ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার ৫৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: সহিদুজ্জামান জানান, ‘বন্যা মোকাবেলায় পুরো জেলায় ৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। আশ্রিতদের জন্য শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’