গত কয়েক দিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলার সবকটি নদীর খাল ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রাম জেলা নয়টি উপজেলার ৪৫ হাজার ৯১৬ পরিবার কার্যত পানি বন্ধ হয়ে দুই লাখ চার হাজার ৮৫০ মানুষ (পুরুষ মহিলা ও শিশু) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
জরুরি সেবা দেয়ার জন্য জেলায় ১১৯টি মেডিক্যাল টিমের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১১টি মেডিক্যাল চালু করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য ২০০ টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মজুমদার নয়া দিগন্তকে বন্যায় পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ও চাউল বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার প্রেরিত তথ্য মোতাবেক জানা গেছে গত কয়েকদিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় এক হাজার ৭৫০টি পরিবারের ৮৫০ সদস্য মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এ উপজেলায় ২০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
পটিয়া উপজেলায় ছয় হাজার ৯৪৬ পরিবারের ২০ হাজার সদস্য পানিবন্দী হয়ে মানবতার জীবনযাপন করছেন। এ উপজেলায় ১০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বোয়ালখালি উপজেলার ১০০ পরিবারের ৭০০ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ উপজেলায় ১০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কর্ণফুলী উপজেলায় ১০০ পরিবারের ৫০০ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই উপজেলায় ১০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রাউজান উপজেলার ৩২০ পরিবারের এক হাজার ৬০০ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই উপজেলায় ১৫ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে ফটিকছড়ি উপজেলায় ১৯ হাজার ৮৫০ পরিবারের এক লাখ দুই হাজার সদস্য পানিবন্দী হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই উপজেলায় ৫০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং মীরসরাই উপজেলার ১২ হাজার পরিবারের ৪৮ হাজার ৫০০ সদস্য পারিবন্দী হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।



