বন্যা কবলিত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে টানা তিন দিন ধরে সব ধরনের আমদানি রফতানি বাণিজ্য ও যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী, লেভার ও কর্মচারী। আগরতলায় বাংলাদেশী নাগরিকরা আটকা পড়ে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।
আজ শুক্রবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, পানি কমতে শুরু করলেও বন্দর সড়কের ধসে পড়া ব্রিজ ও ইমিগ্রেশনের যান্ত্রিকত্রুটি মেরামত শেষে বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাত্রী পারাপার শুরু হতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ জানায়, পানি কমতে শুরু করলেও আগামী দুই দিনের আগে পানি শুকানোর সম্ভবনা নেই। তাদের ঠিকাদার প্রস্তুত আছে। পানি কমলেই তিন দিনের মধ্যে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের আব্দুল্লাহপুর বরাবর জাজির খালে ধসে পড়া বিকল্প ব্রিজ চালু করতে পারবে। তারা ধারণা করছে, সড়ক চালু হতে সব মিলিয়ে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এদিকে, আখাউড়া ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা মো: খায়রুল আলম জানায়, ‘যাত্রী পারাপার শুরু হতে সময় লাগবে। অফিস থেকে এখনো পানি সরে যায়নি। আগামীকাল পানি সরে গেলে বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামত করতে হবে, মেরামত করতে হবে যান্ত্রিক ত্রুটি। সব মেরামত শেষে যাত্রী পারাপার চালু করতে হবে।’ তবে কখন যাত্রী পারাপার শুরু হবে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
আখাউড়া স্থলবন্দরের মাছ রফতানি কারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো: ফারুক মিয়া জানায়, ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানিতে গত বুধবার আখাউড়া স্থলবন্দর তলিয়ে যায় ও বন্দর সড়কের বিকল্প ব্রিজ ধসে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও বাংলাদেশ-ভারত যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে পড়ে। কবে নাগাদ চালু হবে কেউ বলতে পারছে না। বন্দরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় শত শত ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী, লেভার ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে তারা। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে মাছ-সহ কোটি টাকার মালামাল আমদানি-রফতানি হয় বলেও তিনি জানান।
এদিকে, যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকায়, ভারতের আগরতলায় আটকা পড়া শেখ জিয়াউল ইসলাম সবুজ (২৫) ফোনে জানায়, ‘কিছুদিন আগে ক্যান্সার রোগী মাকে নিয়ে ভারতের মুম্বাই টাটা হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ফিরে এসে আগরতলায় আটকা পড়েন। সাথে টাকাও ফুরিয়ে গেছে। এই অবস্থায় তারা চারজন হোটেল ভাড়া করে বাধ্য হয়ে থাকছেন আগরতলায়।’
উল্লেখ্য, বুধবার ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানির তোরে আখাউড়া স্থলবন্দরসহ আখাউড়া উপজেলার কমপক্ষে ৪০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। আখাউড়া-আগরতলা সড়কের স্থলবন্দর সংলগ্ন আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বিকল্প একটি ব্রিজ ধসে পড়ে। বন্দরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য ও বাংলাদেশ-ভারত যাত্রী পারাপারসহ সবকিছু অচল হয়ে পড়ে। এই বন্যায় কোটি কোটি টাকার বাড়ি-ঘর, মাছের প্রজেক্ট, ফসলি জমি, গাছপালা, রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রশাসন বন্যার্তদেরকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় আশ্রয় দেন। গর্ভবতী এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয় পানির তোরে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের সেনাবাহিনী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-ছাত্রীর পাশাপাশি স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। আজ শুক্রবার পানি কমতে শুরু করেছে।



