সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছার নদনদীগুলোতে জোয়ারের পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকার মানুষের রাত কাটছে চরম আতঙ্কে। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত পানির চাপে ভদ্রা নদীর উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের কালিনগরে ওয়াপদার বাঁধ ভেঙে সেখানকার ২২ নং পোল্ডার এলাকায় লবণ পানি ঢুকে যায় অন্তত ১৩টি গ্রামে। এতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, তরমুজসহ সবজির ক্ষেত। ভেসে গেছে তিন শতাধিক ছোট-বড় মাছের ঘের।

এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জোয়ারে ভদ্রা নদীর পানি অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারের কালিনগর বাওয়ালি বাড়ির দক্ষিণ পাশের ওয়াপদার বাঁধ (রাস্তা) ফের ভেঙে যায়। এতে সেখানকার কালিনগর, হরিণখোলা, দারুণমল্লিকসহ ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের এলাকার ওয়াপদার বঁাঁধ ভাঙে। তারপরও স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বঁাঁধ ভাঙার পর থেকে জোয়ারে পানি উঠছে আর ভাটায় পানি নেমে যাচ্ছে।

দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, এলাকাবাসীর পাশাপাশি খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী সোলাদানা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা এনামুল হকের নেতৃত্বে বহু লোক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ সংস্কারে কাজ শুরু করেছে। পুরো বাঁধ সংস্কারে আরো সময় লাগবে। এ ব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন বলেন, সেখানকার অবস্থা কষ্টদায়ক। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে কিভাবে এর সমাধানের স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া যায় সে ব্যাপারে ঊর্ধতন কর্র্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন তিনি।