দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনি বিরোধী অন্দোলনের স্মরণীয় দিন হিসেবে আজ ২৬ আগস্ট সোমবার স্থানীয়ভাবে শোক দিবস পালিত হচ্ছে। গণ-আন্দোলনের ১৯ বছরে পদার্পণ করলেও বাস্তবায়ন হয়নি সেই সময়ের ছয় দফা চুক্তি।
২০০৬ সালের এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্বতিতে ফুলবাড়ী কয়লা খনি বাস্তবায়নের প্রস্তাবকারি এশিয়া এনার্জি নামক একটি বহুজাতিক কোম্পানির ফুলবাড়ীর অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গেলে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণমিছিলের ওপর টিয়ার শেল ও গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন সুজাপুর চাঁদপাড়া গ্রামের মকলেছুর রহমানের ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তরিকুল ইসলাম (২০)বারকোনা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আমিন (১৫) ও উত্তর সাহাবাজপুর গ্রামের সালেকিন (১৭)। একই ঘটনায় দক্ষিণ সাহাবাজপুর গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র, রতনপুর গ্রামের শ্রীমান বাস্কে, সুজাপুর গ্রামের বাবলু রায়সহ চিরতরে পঙ্গু হয় তিন শতাধিক মানুষ। এরপর ফুলবাড়ীর মানুষ গণ-আন্দোলন গড়ে তোলেন। ফলে ফুলবাড়ীর ওপর দিয়ে বাস, ট্রেন চলাচলসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সারা দেশের সাথে কয়েক দিন ফুলবাড়ীর যোগাযোগ বিছিন্ন থাকে। ফুলবাড়ীর মানুষের গণ-আন্দোলনের মুখে ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন সরকারের প্রতিনিধিদল ফুলবাড়ীবাসীর সাথে একটি বৈঠক করে ছয় দফা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির ১৮ বছর পেরিয়ে ১৯ বছরে পদার্পণ করলেও বাস্তবায়ন হয়নি ছয় দফা চুক্তি।
দিবসটি যথাযথভাবে পালনের জন্য পৌরসভার সাবেক মেয়র মো: মাহমুদ আলম লিটন, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ীর বিভিন্ন অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন পৃথক পৃথকভাবে ফুলবাড়ীতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো ব্যাচ ধারণ, গণ জমায়েত, শোক র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও প্রার্থনা।
আজ কয়লা খনি আন্দোলনের ১৯ বছর
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনি বিরোধী অন্দোলনের স্মরণীয় দিন হিসেবে আজ ২৬ আগস্ট সোমবার স্থানীয়ভাবে শোক দিবস পালিত হচ্ছে। গণ-আন্দোলনের ১৯ বছরে পদার্পণ করলেও বাস্তবায়ন হয়নি...



