ভরা বর্ষায় উত্তাল থাকে পদ্মা নদী। অন্যদিকে বৈরি আবহাওয়া। এ অবস্থায়ও ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনটঘাট থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রশনের গোপালপুরে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে স্পীডবোটে যাতায়াত করছে।
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা নেই এই পথে। ঘাটকর্তৃপক্ষের দায়সারা বক্তব্য দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কাজ করতে দোহার ও চরভদ্রশন এই দুই উপজেলার যাত্রীরা পদ্মা পারাপার হয়ে থাকেন। এক সময় ট্রলারে যাত্রীরা নদী পারাপার হলেও প্রশাসন ট্রলার বন্ধ করে লঞ্চ সার্ভিস চালু করে। পাশাপাশি স্পীডবোটও রয়েছে। কম সময়ে নদী পারাপারের জন্য অনেকে স্পীডবোটে যাতায়াত করে থাকেন। তবে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও মানছেন না চালক ও ঘাটকর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত যাত্রীবহন, বাড়তি ভাড়া ও নিরাপত্তা এসব বিষয়ে উদাসীন তারা।
সরেজমিনে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে এই প্রতিবেদকের। যাত্রী ও ঘাটকর্তৃপক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতে দেখা গেছে।
ভাড়ার দায়িত্বে থাকা মোকছেদ আলী জানায়, ‘যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট পরতে চায় না আর যাত্রীরা বলছে আমাদেরকে লাইফ জ্যাকেট চাইলেও দেয় না।’
বাড়তি ভাড়া ও গাদাগাদি করে লোক উঠানোর ব্যাপারে অভিযোগ যাত্রীদের।
চরভদ্রশনের কামরুল সরদার নামে এক যাত্রী জানান, ‘গোপালপুর থেকে মৈনট আসার সময় ভাড়া দিতে হয় ১২০ টাকা আর মৈনট থেকে যাওয়ার সময় দিতে হয় ১৫০ টাকা। ভাড়ায় বৈষ্যমের শিকার তারা এমনটাই অভিযোগ।
ঘাট-কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস আগে ১৮ জন যাত্রী নিয়ে একটি স্পীডবোট ডুবে গেলে উদ্ধারকারীরা সেখান থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে। এর আগে, একাধিক দুর্ঘটনার শিকার হয় যাত্রীরা।
সচেতন যাত্রীদের দাবি, দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে দুর্ঘটনা আরো বাড়বে।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানায়, ‘মৈনটঘাটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। মূলত ভাড়া আদায়সহ অন্যান্য দিক দেখাশোনা করছে তারা।’
তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।



