কালীগঞ্জে হত্যা মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার রিমন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। তিনি মাদক কারবার, ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মোখলেছুর রহমান জিতু মিয়ার ছেলে ফয়সাল হত্যা মামালার তিনি ছিলেন প্রধান আসামি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিমন মিয়া (২৮) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে যখন দেশের সকল থানা পুলিশ শূন্য হয়ে পড়লে তার নেতৃত্বে কুমারটেক বাজারে রাতে ডাকতির ঘটনা সংগঠিত হয়। তাই স্থানীয়রা তাকে আগে থেকেই খুঁজতে ছিল।

গত রোববার বিকেলে পৌর সভার খঞ্জনা গ্রামে তার বাড়ির পাশে তাকে একা পেয়ে স্থানীয়রা উত্তম মধ্যম দিলে তিনি পালিয়ে যান। সেখান থেকে তিনি পাশ্ববর্তী উত্তরগাঁয়ের কুমারটেক গ্রামে গেলে স্থানীয় জনতা তাকে দ্বিতীয় দফা গণপিটুনি দেয়। রিমন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাদগাতী গ্রামের মোসলেহ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রেজিনা আফরিন জানান, অপরিচিত এক রিকশাচালক গুরুতর জখম অবস্থায় রিমনকে হাসপাতালের বারান্দায় রেখে চলে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করি। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং হাসপাতালে পৌঁছার অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাতাব উদ্দিন প্রতিবেদককে জানান, কে বা কারা তাকে মারধর করে হাসপাতালে রেখে গেছে তাৎক্ষণিক তা জানা যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করে বিষয়টি আমাকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।