কয়েকদিনের অব্যাহত ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রাম জেলায় মৎস্য খাতে ২৯০ কোটি ৪৭ লাখ ৪২ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে আরো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে মৎস্য খাতে।
সোমবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ।
তিনি জানান, গত বছরও (২০২৩) আগস্টের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যায় চট্টগ্রাম জেলা জুড়ে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। গত কয়েকদিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যায় জেলার ১৫টি উপজেলায় ১৬২টি পৌরসভা ও ইউনিয়নপর্যায়ে পাঁচ হাজার ৫৪১ দশমকি ৬ হেক্টরের ১৬ হাজার ৮৬৪টি পুকুর দিঘী ও মাছের খাবার এবং বাঁশখালীর ১২ হেক্টর মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত খামার দীঘিপুকুর ও ঘেরের ১৬ হাজার ৫৯৫ দশমকি ৮ মেট্রিক টন মাছ এবং ১৪ মেট্রিক টন মাছের পোনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে মাছে ২৮৯ কোটি ৬৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা ও প্রণয় ক্ষতি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ মাছ ও পোনায় ক্ষতি হয়েছে ক্ষতি হয়েছে ২৯০ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং অবকাঠামোর অতি সাধিত হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। মাছ এবং অবয়ঠামো মিলিয়ে ২৯০ কোটি ৪৭ লাখ ৪২ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
উপজেলা ওয়ারী বাঁশখালী উপজেলায় ৬৫ হেক্টরের ১৭৬ টি পুকুর দীঘি খামার ও ১২ হেক্টর মাছের ঘেরসহ এ উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে চার কোটি ৮৩ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। পটিয়া উপজেলায় ৩৫৮ দশমকি ৯০ হেক্টরের এক হাাজর ৭৭৩টি পুকুর দীঘির ও খামারের ৮৫০ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কর্ণফুলী উপজেলায় ৩৭ দশমকি ৩৪ হেক্টরের ২০৭ পুকুর দীঘি খামারের ৫৬ দশমকি এক মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ এ উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে এক কোটি ১২ লাখ দুই হাজার টাকা। চন্দনাইশ উপজেলায় ১১০ দশমকি চার হেক্টরের ৩০২টি পুকুর দিকে খামারের ১১২ দশমকি ৫০ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ দুটি কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা ৬৭ দশমকি ৭৮ হেক্টরের ১৪৮টি পুকুর দিঘী ও খামারের ১২৫ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ দুটি কোটি ৩৪ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্ত মিরসরাই উপজেলায় দুই হাজার ৪২৯ সেক্টরের তিন হাজার ৭০০ পুকুর দীঘি ও খামারের আট হাজার ৫৯৬ দশমকি ৪০ মেট্রিকটন মাছ এক মেট্রিকটন পোনা ও অবকাঠামোসহ এ উপজেলায় ১৪২ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলায় ২৩৪ সেক্টরের ৫০০ পুকুর দীঘি ও খাবারের ৪১১ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ সাত কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সন্দ্বীপ উপজেলায় ১৪৫ হেক্টরের হাঁক্টরের ৮১৪টি পুকুর দিঘী ও খাবারের ৪৮২ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ এ উপজেলায় ১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বোয়ালখালী উপজেলায় ২৫০ হেক্টরের হেক্টরের ৫৬৮টি দীঘি ও খামারের ৭৩৭ দশমকি ৫০ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ ১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আনোয়ারা উপজেলায় ১৪৯ হেক্টরের ৪৫৭টি পুকুর দিঘী ও খামারের ২৫৬ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ এ উপজেলায় পাঁচ কোটি ৬০ লাখ টাকার কত সাধিত হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় ১২২ হেক্টরের ৫৪৩টি পুকুর দীঘি ও খামারের ২৯৮ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলায় ৮২৭ হেক্টরের চার হাজার ১৩টি কুকুর ডোবা ও খামারের এক হাজার ৮৮৬ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ এ উপজেলায় ৩৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। হাটহাজারী উপজেলায় ৩২৩ হেক্টরের এক হাজার ৬০০টি পুকুর দীঘি ও খামারের এক হাহার ২১৪ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ এই উপজেলায় ২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। রাউজান উপজেলায় ১৪৩ হেক্টরের ৬৪৮টি পুকুর দীঘি ও খামারের ৫৭২ মেট্রিকটন মাছ ১০ মেট্রিকটন পোনা ও অবকাঠামোসহ এ উপজেলায় ক্ষতি সাধিত হয়েছে নয় কোটি ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ২৮০ হেক্টরের এক হাজার ৪১৫টি পুকুর দীঘি ও খামারের ৭৫০ মেট্রিকটন মাছ ও অবকাঠামোসহ এ উপজেলায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ।



