‘জীবনে কোনো দিন এত পানি দেখিনি, বিভিন্ন জায়গায় বন্যা হতো শুনতাম। এবার নিজের ঘরে গলা সমান পানি! এক রাতের মধ্যে সারা গ্রামটা ভেসে গেল। অনেক কষ্টে নাতিদের নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসি। পানির ¯্রােত যে এত ভয়াবহ, নিজের চোখে না দেখলে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। এখনো বেঁচে আছি এটাই তো বড় কথা।’
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় পানিবন্দী হয়ে বাড়ি ছেড়ে উপজেলার মিঠাছড়া উচ্চবিদ্যালয়ে আশ্রয় নিতে আসা সুরেজ জাহান গত সোমবার এ কথাগুলো বলেন। তিনি মিঠানালা ইউনিয়নের হাদিমুছা গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী।
সুরেজ জাহান বলেন, ১৯৯১ সালেও ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা হয়েছে। কিন্তু এত পানি দেখিনি। অন্য সময় নদী পাড়ের এলাকায় পানি উঠলেও আমাদের এলাকায় উঠেনি। কিন্তু এবারের অবস্থা ভয়াবহ। প্রথমে কোমর পরিমাণ পানি উঠে, পরে দেখি গলা সমান পানি। এক রাতের মধ্যে ঘটে যায় ঘটনা। ঘরে বন্দী হয়ে পড়ি। অনেক কষ্টে কয়েকজন মিলে নৌকায় করে আমি, আমার স্বামী ও নাতিদেরকে নিয়ে এখানে আসি। চারদিন ধরে মিঠাছড়া স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। ঘরের কিছুই আনতে পারিনি। সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। পানি কমলেও বাড়ি গিয়ে কী করব? ওই ঘরে কিভাবে থাকব? কি খাবো?
সুরেজ জাহানের স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রেও আর মন টিকছে না। নিজের বাড়ি ঘরে চলে যেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু এখনো পুরোপুরি পানি নামেনি। গিয়ে তো থাকতে পারব না। বাধ্য হয়েই আরো দু-এক দিন থাকতে হবে মনে হয়।
মিঠাছড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম বলেন, গত চার দিন ধরে স্কুলে প্রায় ২৫০ বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তার মধ্যে সোমবার সকালে ২০-২২ জন বাড়ি চলে গেছে। শুরুতে কয়েক বেলা আমি তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। পরে উপজেলা প্রশাসন, বিএনপি, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও ফেনী নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পানির প্রভাবে মিরসরাইয়ে টানা পাঁচ দিনের বন্যায় পানিবন্দী ছিল প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষ। এখানকার ১১টি ইউনিয়ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রথম দিকে ফেনী নদীর তীরবর্তী করেরহাট, হিঙ্গুলী, ধুম, ওচমানপুর ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হলেও শুক্রবার (২৪ আগস্ট) রাত থেকে এখানকার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।
‘এখনো বেঁেচ আছি, এটাই তো বড় কথা’
‘জীবনে কোনো দিন এত পানি দেখিনি, বিভিন্ন জায়গায় বন্যা হতো শুনতাম। এবার নিজের ঘরে গলা সমান পানি! এক রাতের মধ্যে সারা গ্রামটা ভেসে গেল। অনেক...



