চাঁদপুরে টানা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেচ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক শ’ পরিবার। ফলে খাবার সঙ্কট ও গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে বিপাকে দিনযাপন করছে তারা।
একইসাথে গত কয়েকদিন ধরে এই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যহত হচ্ছে। এদিকে জেলায় পাঁচ উপজেলার ২০০ গ্রামে পানিবন্ধী ৪০ সহস্রাধিক মানুষ। এরমধ্যে শাহরাস্তি উপজেলায় সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৯৪০ পরিবার পানিবন্ধী বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)।
শাহরাস্তি উপজেলার বন্যায় প্লাবিত এলাকাসমূহ ইউনিয়নভিত্তিক গ্রামের নাম চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের পাথৈর, দৈয়ারা, নালিয়ারা, একাতড়ী, কান্দিরপাড়, পুটিয়া, নুনিয়া, নোয়াপাড়া, আয়নাতলী, হাঁড়িয়া, স্বেতীনারায়নপুর, কোঁয়ার, উঘারিয়া, রাঘবপুর, ছিমাইল, বগৈড়, বাবুপুর, সাতবাড়ীয়া, সোনারগাঁও, খেড়িহর চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন বাজেতুলা, ঘড়িমণ্ডল, সালেঙ্গা, বরইপুকুরিয়া, কাদরা, কসবা, বেততোলা, কালোচোঁ, খিতারপাড়, চকবস্তা, কর্ণপাড়া, লেপসা, চাঁন্দল, রাজারামপুর, মোহল্লা, চিতোষী, রায়েরবাগ, মনিপুর, মৎসপাড়া, নাগবাড়ীয়া, নরহ, মপানচাইল,বড়তুলা, ছোটতুলা, শ্যামপুর ও তেতৈশ্বর সূচিপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন, রাগৈ, দিগধাইর, লোটরা, শিমুলিয়া, দশনাপাড়া, ফুলচৌ, কেশরাঙ্গা, কৃষ্ণপুর, ফেরুয়া, হাকামতা, মনোহরপুর, সংহাই ও নরিংপুর।
সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়ন বসুপাড়া, ভড়ুয়া, ভবানীপুর, চাঁদপুর, চেড়িয়ারা, দৈকামতা, ছাতার পাইয়া, ধামরা, ঘোড়া ময়দান, হাড়াইরপাড়া, লাকামতা, নবাবপুর, পৌছিয়া, পাড়ানগর, শোরসাক দক্ষিণ, শোরসাক উত্তর সূচীপাড়া, নোয়াপাড়া।
রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের রায়শ্রী, রাজাপুর, চন্ডিপুর, যাদবপুর, গঙ্গারামপুর, উনকিলা, আনন্দপুর, আতাকরা, বোগরা, খাটরা, খামপাড়, দহশ্রী, হাটপাড়, দেহেলা, রশিদপুর, দাদিয়াপাড়া ও উল্লাশ্বর।
রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের নাহারা, পরানপুর, বিজয়পুর, কুরকামতা, ফটিকখিরা, প্রসন্নপুর, আহমদ নগর, বেরকী, নোয়াপাড়া, ঘুঘুরচপ, খিলা, কৃষ্ণপুর, বেরনাইয়া, শিবপুর ও রঘুরামপুর।
মেহের দক্ষিণ ইউনিয়নের ফতেপুর, ভোলদিঘী, মালরা, পদুয়া, দারুনকরা ও দেবকরা।
মেহের উত্তর ইউনিয়নের দেবীপুর, নায়নগর, তারাপুর, কাঁকৈরতলা, দুর্গাপুর, বানিয়াচোঁ, খনেশ্বর, বরুলিয়া, পতিচোঁ, নয়নপুর, শেক্কুনী ও কদমতলি।
টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের সোনাচোঁ, মোফল্লা, ধোপল্লা, আলীপুর, রাজাপুরা, আজাগরা, খোর্দ্দ, উয়ারুক, কুলশী, সংকরপুর, টামটা, টামটা উত্তর ইউনিয়ন সুরসই।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালুথুবা-সেকদী, চান্দ্রা, সুবিদপুর, তাম্রশাস্ন, আইটপাড়া, চৌরনঙী, গুপ্টি লাউতলী, পাইকপাড়া-বোয়ালীয়া, বালিচাটিয়া, কড়ইতলী, ধানুয়া, প্রত্যাশী, দিগলদী, হাওয়া কান্দী, চররামপুর, আলোনিয়া, ফিরোজপুর, সন্তোসপুর, কালিবাজার, হর্নিদূর্গাপুর, গাব্দের গাও, রুপসা, ঘোড়াসাল ও কাওনিয়া।
পোরসভা- ভাটিয়ালপুর, গুদাড়ার চর, কেরোয়া, চর বসন্ত, সাহাপুরের একাংশ, হর্ণি দূর্গাপুর গ্রামের শত শত মানুষ পানিবন্দী ও পোয়ার চর গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। গোবিন্দপুর দক্ষিণ গোবিন্দপুর।
সদর উপজেলার ৯ নম্বর বালিয়া ইউনিয়নের যেসব গ্রামগুলো ভয়াবহভাবে পানির নিচে রয়েছে। বালিয়া গ্রাম, চাপিলা গ্রাম, কুমড়ুয়া গ্রাম, গুলিশা, বাগাদী ইউনিয়নের ঘাসিপুরসহ গ্রাম।
কচুয়া উপজেলা দুইটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে হারিচাল, পিপলকরা গ্রাম, দুটি গ্রামের ৫২টি পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুখনো খাবার দেয়া হয়েছে। তম্মধ্যে ১০টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
বাগাদি ইউনিয়নের বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, ‘চার দিনের বৃষ্টিতে আমার তিনটি ঘরে পানি। গবাদি পশু নিয়ে আছি খুবই বিপাকে। রান্নাও করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ নেই গত দুদিন। আমাদের কেউ এসে খোঁজ খবরও নেয় না।’
একই এলাকার বাসিন্দা জোৎস্না বেগম বলেন, ‘জলাবদ্ধতায় পরিবারের সদস্যরা খুবই কষ্ট আছেন। পানি কমছে না।’ তিনি সরকারি সহায়তা কামনা করেন।



