মনু নদীর বাঁধ ভেঙে চলতি বন্যায় কুলাউড়া উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৪০০ ঘর বিধ্বস্তসহ রোপা আমন তথা কৃষি জমির ধান নষ্ট হওয়া, কাঁচা-পাকা রাস্তা নষ্ট হওয়া ও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়াসহ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
প্রশাসনের হিসাব মতে কুলাউড়ায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার ওপরে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন টিলাগাওয়ের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক জানান, তার ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। কৃষকের শত শত বিঘা রোপিত আমনক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত ফিশারী ভেসে গেছে। রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমকর্তা শিমুল আলী জানান, ৩৫০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে এ উপজেলায়। দুইশ’ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তা খাতে ২৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুলাউড়া সিনিয়র মৎস্য অফিসার আবুল মাবুদ জানান, কুলাউড়া উপজেলায় ৬০০ পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। ৪০০ মৎস্যচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি ৯৩ লাখ টাকা। কৃষি খাতে ২৫ কোটি টাকার আমনক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিউদ্দিন জানান, বন্যায় ৯টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। সবমিলিয়ে এ উপজেলায় কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।