কয়েকদিনের ভারীবর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ উপকূল। বন্যার কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ সমগ্র জেলায় ১৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নির্মিত বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকের যার ক্ষতির পরিমাণ ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বাপাউবো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট থেকে একটানা বেশ কয়েকদিনের ভারীবর্ষণ পাহাড়ি ঢলে সাগর ও জেলার সবকটি নদী খাল ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। একইসাথে সাগরের অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাসে বিস্তীর্ণ সাগর উপকূল, নদী ও খালের তীর লণ্ডভণ্ড হয়ে বিস্তীর্ণ উপকূল প্লাবিত হয়। টানা কয়েকদিনের বন্যা ও অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী আনোয়ারা সাতকানিয়া লোহাগাড়া চন্দনাইশ পটিয়া কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ জেলার ফটিকছড়ি হাটহাজারী সন্দ্বীপ মিরসরাই কাপ্তাই ও রাঙ্গুরিয়া খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি ডিভিশনের কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টেকসই প্রটেকটিভ ওয়ার্ক ও বিস্তীর্ণ বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ১-এর অধিনে বাঁশখালী আনোয়ারা পটিয়া কর্ণফুলী চন্দনাইশ সাতকানিয়া লোহাগাড়া উপজেলাসহ উত্তর জেলার কয়েকটি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরের অংশবিশেষ এর ৫ দশমিক ৩৬০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ ২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
রাঙ্গামাটি ডিভিশনের অধীনে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী রাঙ্গুনিয়া রাঙ্গামাটি কাপ্তাইসহ বিস্তীর্ণ উপকূল ও নদীর তীরের প্রায় ২ দশমিক ১৩১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা টাকার অংকে ক্ষতির পরিমান ১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
ডিভিশন ২-এর অধীনে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, মিরসরাই সন্দীপ ফটিকছড়ি ও খাগড়াছড়ির প্রায় ৯ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা টাকার অংকে ৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন ১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সায়ীদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বন্যার পানি নামার সাথে সাথে ভাঙন কমবেশি হচ্ছে। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতি পরিবার আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি জানান।



