নুডলস রান্না করে বসে আছি ছেলের জন্য। ছেলে বলে গিয়েছিল, ‘মা তুমি নুডলস রান্না কর, আমি ফুটবল খেলতে যাই। খেলা শেষে বাড়িতে এসে রাত্রে তোমাকে নিয়ে নুডলস খাবো।’ স্যার আপনারা কি আমার ছেলে আমজাদকে নিয়ে এসেছেন? এ কথা বলে, কেঁদে কেঁদে মা দেলোয়ারা বেগম মূর্ছা যান। হাঁপ ছেড়ে আবার তিনি একই কথা বলতে থাকেন, ‘স্যার আমার বুকের ধন আমজাদ কখন আসবে। আমার বুকের ধনকে নিয়ে এসেছেন?’
গত বুধবার বিকেলে শহীদ আমজাদ হোসেনের বাড়িতে গেলে আমজাদের মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে কথাগুলো বলতে থাকেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলায় ইটাখোলা হাইওয়ে থানার পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আমজাদ হোসেন (২২)।
শহীদ আমজাদ নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের রামপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আরমান মিয়ার ছেলে। বুধবার বিকেলে তাদের বাড়িতে গেলে আমজাদের বড় ভাই আকরাম হোসেন জানান, ঘটনার দিন বিকেলে আমজাদ মাকে নুডলস রান্নার কথা বলে ফুটবল খেলতে চলে যায়। খেলা শেষে বাড়িতে আসার পথে ইটাখোলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের গুলিতে আমজাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। স্থানীয়রা তাকে চিনতে পেরে রাতে আমাদের খবর দেয়। দুইটি গুলি লেগেছিল তার বুকে। রাত ১০টায় তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমজাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরে দিন ২০ জুলাই রোববার গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। আমজাদের নিহত হওয়ার খবর পেয়ে তার সহপাঠীসহ অনেকেই বাড়িতে আসে।
শহীদ আমজাদের বড় ভাই আকরাম হোসেন আরো জানান, তারা তিন ভাই দুই বোন। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। ভাই-বোনের মধ্যে আমজাদ তৃতীয়। ছোট ভাই নবম শ্রেণীতে পড়ে। আকরাম বলেন, আমি এইচএসসি পাস করে অভাবের কারণে একটি প্লাস্টিক কারখানায় চাকরি করছি। সংসার চালাতে পারছি না। ভাই আমজাদ লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করবে। সংসারের হাল ধরবে। আমাদের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।



