শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের টেবিলের একপাশে রাখা ছিল একটি কাগজের বাক্স। সেখানে লেখা ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসি।’- শিক্ষার্থীদের সবাই একে একে সেই বাক্সে রেখে যাচ্ছে টাকা। কেউ ৫ টাকা, কেউ ১০, কেউ ২০, এমনকি কেউবা ১০০ টাকাও রেখে যাচ্ছে ওই বাক্সে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য গণত্রাণ সংগ্রহের এ দৃশ্য দেখে উৎসাহিত শিক্ষার্থী।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তরা রমজান আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেউ খাতা-কলম, কেউবা জ্যামিতি বক্স কেনার টাকা, আবার বেশির ভাগ শিক্ষার্থী সারা মাসের টিফিনের জমানো টাকা নিয়ে এসেছে সিলেটে বন্যাকবলিত মানুষের সাহায্যের জন্য।
গত শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জমানো এ টাকা বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে জমা দেয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরীদের দেখে অনেক পেশাজীবী মানুষও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা প্রায় দশ হাজার টাকা তুলে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ হোসেনের হাতে। এ কাজে সমন্বয় করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক পংকজ পাল। শুধু ঘিওরের এ বিদ্যালয়েই নয়, উপজেলার আরো অনেক স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীরা বন্যার্তদের সহায়তা এগিয়ে আসার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
শিক্ষার্থী সুমাইয়া, অংকিতা ও ছোঁয়া বলে, বন্যার্ত ভাইবোনরা অনেক কষ্টে আছেন। তাদের সাহায্য করার জন্য আমরা সারা মাসের টিফিনের টাকা এখানে দিয়েছি। অপর শিক্ষার্থী শুভ ও মাইমুনা বলেন, আমরা ছোট। আমাদের সাধ্যমতো যা পেরেছি, তাই দিয়েই সহায়তা করতে চেষ্টা করছি। এটা করতে পেরেই আমরা খুশি। শিক্ষক পংকজ পাল বলেন, আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মানবিক বাংলাদেশ গঠনে অবশ্যই স্বপ্ন দেখাবে।
টিফিনের জমানো টাকায় বন্যার্তদের পাশে শিশু শিক্ষার্থীরা
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের টেবিলের একপাশে রাখা ছিল একটি কাগজের বাক্স। সেখানে লেখা ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসি।’- শিক্ষার্থীদের সবাই একে একে সেই বাক্সে রেখে যাচ্ছে...



