বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান না থাকায় ট্রেনের হুইসেলই পথচারীদের সতর্ক হওয়ার একমাত্র ভরসা। এ বিভাগের অসংখ্য স্থান লেভেলক্রসিং (রেলগেট) রয়েছে। কিন্তু সেসব স্থানে গেটম্যান নেই। তবে রেল কর্র্তৃপক্ষ বলছেন, প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে গেটনির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগ দেয়া রেলওয়ের পক্ষে সম্ভব নয়।
লালমনিরহাট রেলসূত্র জানায়, এ বিভাগের আট জেলার ৫২৫টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে ৩০৫টি। পাঁচশ’ ৪০ কিলোমিটার রেলপথের এসব রেলক্রসিংয়ে কোনো গেট কিংবা গেটম্যান না থাকায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এ কারণে অহরহ প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে চলেছে।
রেলওয়ে (পশ্চিম) লালমনিরহাটের অধীনে ৫২৫টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে রংপুরে ৪৫টি, লালমনিরহাটে ২৫টি, কুড়িগ্রামে ৩০টি, বগুড়ায় ৫৫টি, দিনাজপুরে ৫২টি, গাইবান্ধায় ৩৬টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫টি ও পঞ্চগড়ে ৩৭টি চালু অবস্থায় রয়েছে। এসব ক্রসিংয়ের মধ্যে ৮৫টির দায়িত্ব পালন করছেন রেলওয়ের নিয়মিত স্টাফ, ১৩৫টি চলছে দিনমজুরির ভিত্তিতে আর বাকিগুলো রয়েছে অরক্ষিত। এসব অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ট্রেনের হুইসেলই যেন পথচারীদের একমাত্র ভরসা।
রেলওয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, অরক্ষিত ক্রসিংয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি, আহত হয়েছে ১৯৭ জন। আহতদের মধ্যে আছেন বিগত মহাজোট সরকারের সাবেক গণশিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপিও। তিনি হাতিবান্ধা উপজেলার বড়খাতা লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।
জানা গেছে, রেলওয়ের অনুমতি ছাড়াই লাইনের ওপর অবৈধভাবে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তা নির্মাণ করে এসব ক্রসিং তৈরি করেছে। এসব অবৈধ ক্রসিংয়ের সকল দায়দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। এ জন্য রেলওয়ে দায়ী নয়। তবে আশার কথা হলো, অরক্ষিত এসব লেভেল ক্রসিংয়ে সিগন্যালিক ব্যবস্থা চালুর জন্য গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগের ব্যাপারে ডিপিপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গেটম্যানবিহীন ক্রসিংয়ে সতর্কীকরণ নোটিশ বোর্ড আছে। এতে লেখা আছে- গেট ও গেটম্যান না থাকায় নিজ দায়িত্বে সতর্কতার সঙ্গে রেললাইন পারাপার হতে হবে। তবে বৈধ রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষের ওপর দায়িত্ব বর্তায় এবং তদন্ত করা হয়। দোষী রেলকর্মীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হয়।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় (ডিআরএম) ম্যানেজার আব্দুস সালাম বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ বিভিন্ন সময়ে রেললাইনকে ক্রস করে রাস্তা নির্মাণ করে। যদিও এভাবে রাস্তা নির্মাণ করতে হলে রেলওয়ের অনুমোদন নেয়ার বিধান রয়েছে কিন্তু সেটির কেউ তোয়াক্কাই করে না। প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগ দেয়া রেলওয়ের পক্ষে সম্ভবও নয়। নিয়ম হলো যেসব সংস্থা রেলক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করবে, তারাই গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগ করবে।