রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রকল্প ও ডিজাইন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের (ডিডিএম) মুজিব কেল্লা প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গুরুত্বপূর্ণ এই দুই প্রতিষ্ঠানের একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তির দাপটে প্রমোশনের সব বিধি ভঙ্গ করে প্রধান প্রকৌশলীর পদ বাগিয়ে নেন রাজউকের প্রকল্প ও ডিজাইন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক। এই পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি-অনিয়ম করে হয়েছেন শত শত কোটি টাকার মালিক। গড়েছেন বিপুল অবৈধ সম্পদ।
অপর দিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মুজিবকেল্লা প্রকল্পের সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বিভিন্ন প্রকল্পের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা। নামে-বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদ।
বিধি ভঙ্গ করে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী হন উজ্জ্বল মল্লিক, রাষ্ট্রকে ঠকিয়ে হাতিয়েছেন শত শত কোটি টাকা।
সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আওয়ামী লীগে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ক্ষমতার দাপটে পদোন্নতির সব বিধিমালা ভঙ্গ করে প্রধান প্রকৌশলীর পদ বাগিয়ে নেন রাজউকের প্রকল্প ও ডিজাইন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক। কম্পিউটার অপারেটর থেকে প্রধান প্রকৌশলী হওয়া পর্যন্ত সবগুলো পদে আসীন হতে বিধি ভঙ্গ করেছেন তিনি।
বিধিভঙ্গসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দুদক উজ্জ্বল মল্লিকের অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান করছে। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধিকাংশ দুর্নীতিবাজ গা ঢাকা এবং পালিয়ে থাকলেও অজানা কারণে বহালতবিয়তে আছেন উজ্জ্বল মল্লিক। তবে তার নামে দুদকের পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা হয়েছে। হতে পারেন শাস্তির মুখোমুখি।
উজ্জ্বল মল্লিকের দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে তিন সদস্যের টিম অনুসন্ধানে নেমেছে। বিগত ২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল দুদক থেকে রাজউকের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের লাগামহীন অপচয়, দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল প্রকল্পের হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য নোটিশ পাঠায়। তবে তার ক্ষমতার দাপটের কারণে দুদকের অনুসন্ধান বেশি দূর এগোতে পারেনি।



