স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা। পানিবন্দী হয়ে পড়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ। যে সময়ে চারদিকে যখন বাড়ছে পানির স্রোত। বাঁচার আকুতিতে যখন ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ছেলে নিতে পারছেনা মা-বাবার খোঁজ আবার মা-বাবা নিতে পারেনি সন্তানের খবর। চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় কেটেছে প্রায় চারদিন। ঠিক তখনই আর দেরি না করে দুর্বার রেসকিউ টিম চারটি উদ্ধারকারী বোট ও পিকআপ নিয়ে ছুটে চলে এ প্রাপ্ত থেকে ওপ্রান্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট থেকে ফেনী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ও ভারী বর্ষণের কারণে মিরসরাই উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, ধুম ইউনিয়নসহ ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘর প্লাবিত হয়। পানিবন্দী হয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ। তখন উপজেলার শান্তির হাট, গোলকের হাট, নাহেরপুর, ওচমানপুর, আবুরহাট কাজীগ্রাম, লুদ্দাখালী, এছাক ড্রাইভার হাট, ঝুলনপোল ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা পিএইচপি কারখানার সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে স্রোতের তীব্রতা ও গলাসমান পানি উপেক্ষা করে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে তিন দিন, রাত ৩টা পর্যন্ত প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে প্রায় দুই শতাধিক পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন দুর্বার স্বেচ্ছাসেবীরা। পৌঁছে দিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, সমাজ উন্নয়ন সংস্থা দুর্বার প্রগতি সংগঠনের কর্মীরা জীবন বাজি রেখে পানিবন্দী দুই শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে। এরপর বন্যায় আশ্রিত ও পানিবন্দী মানুষদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ পর্যন্ত মিরসরাইয়ের মিঠানালা, কাঁটাছড়া, ওচমানপুর, দুর্গাপুর, ধুম, মঘাদিয়া ও ইছাখালী ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষ ও দুর্গত এলাকায় পানিবন্দী প্রায় ৫০০০ জনের মধ্যে রাত ও দুপুরের খাবার, শুকনা ও ভারি খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
সভাপতি রিপন কুমার দাশ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সংগঠন থেকে ৫ একর জমিতে রোপণযোগ্য ধানের চারা বিতরণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ৫০ জন দুর্বার স্বেচ্ছাসেবী টানা ১০ দিন এ বিশাল কর্মযজ্ঞে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এবং সংগঠনের সদস্য, পৃষ্ঠপোষক ও শুভাকাক্সক্ষীগণ আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। দুর্যোগকালীন সময়ে দুর্বারদের এসব নিরবচ্ছিন্ন সাহসিক ও মানবিক কার্যক্রম দেশ গড়ার কাজে তরুণদের উৎসাহিত করবে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন জানান, এবারের বন্যায় অনেকগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তৎপরতা খুবই প্রশংসনীয়। তারা পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসাসেবা প্রদানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম দুর্বার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আমি তাদের সফলতা কামনা করছি।