সংসারে স্ত্রীর ভরণপোষণ ও দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে ঢাকার সাভারে একটি দোকানে মুরগির গোশত বিক্রি করতেন জরিফুল ইসলাম (২৮)। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবি গ্রামের আব্দুর সাত্তার ছেলে তিনি। জরিফুলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে জরিফুলের বাম পায়ে দু’টি গুলি লাগে। গুলি বের করা হলেও পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় হাঁটতে পারছেন না জরিফুল। পঙ্গু হওয়ার উপক্রম প্রায়। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করতেও পারছেন না। গ্রামে কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আয়-রোজগার না থাকায় বর্তমানে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মানববেতর জীবনযাপন করছেন জরিফুল।

গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারে ছাত্রদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন জরিফুল। দিনব্যাপী পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা ৩টার দিকে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে বাম পায়ে পর পর দুইটি গুলি লাগে জরিফুলের। ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মেডিক্যালে নিয়ে গেলেও ছাত্রলীগ ও পুলিশের বাধার মুখে জরিফুলকে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে একটি প্রাইভেট হাসপাতলে নিয়ে পায়ে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। ডাক্তার জানান, তার পায়ের দুটি হাড়ই ভেঙে গেছে।
জরিফুল বলেন, দোকান বন্ধ রেখে সেদিন সাভারে আন্দোলনে যোগ দিই। ছাত্রদের পানি ও খাবার সরবরাহ করি। এসময় আমার বাম পায়ে পরপর দু’টি গুলি লাগে। এখন চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্ববরণ করে বাড়িতেই পড়ে আছি।
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন এক হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এত টাকা আমি কই পাই? আমার চিকিৎসা, সংসার কিভাবে চলবে এখন। সমাজের সবার কাছে সাহায্য চাই। যারা আমাকে গুলি করেছে, তাদেরও বিচার চাই।