চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ১১টি ইউনিয়ন। পানিবন্দী ছিল প্রায় দুই লাখ মানুষ। বিশেষ করে ফেনী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে নদীতীরে অবস্থিত এলাকায় এখন আরো বেশি প্রকট আকার ধারণ করছে নদীভাঙন। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ের মানুষগুলোর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের পর বছর ফেনী নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শত শত বসতবাড়ি আর হাজার হাজার একর কৃষিজমি। কয়েক বছর নদীভাঙন বন্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ের বন্যায় অতিরিক্ত পানির চাপ ও স্রোতে ফেনী নদীর মিরসরাই অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ফেনী নদীর আমলীঘাট থেকে শুভপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মোল্লা বাড়ি, তিলকের খাল, চোধুরী বাড়ির প্রায় অর্ধশত বসতবাড়ি ভাঙনের কবলে। ফেনী নদীর অপর পাশে ছাগলনাইয়া উপজেলা। ওই তীরে নতুন করে চর জাগায় মিরসরাই অংশে স্রোতের পানি তীব্র ধাক্কা দিচ্ছে। এতে করে নদীর তীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
অলিনগর গ্রামের বাসিন্দা আরমান জানান, নদীর এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে। ঠিক তেমনই হচ্ছে ফেনী নদীতে। তবে ভাঙনের পর আমাদের ভাগ্য গড়া হবে কি না তা কেউ বলতে পারে না। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে আমরা আরেকটি সঙ্কটে পড়েছি। আমেনা বেগম বলেন, নদী তার ভিটেমাটি ভাসিয়ে নিলে কোথায় আশ্রয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ওপরওয়ালা ছাড়া কেউ জানে না।
ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া ব্লক এই বন্যায় তলিয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত মানুষের পুনর্বাসন এবং শক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সরকারের কোনো উদ্যোগও নেই। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার শঙ্কায় গ্রামবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী ও ধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনের সৃষ্টি হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর, পশ্চিম জোয়ার, ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা ও শুক্কুরবারইয়াহাট গ্রামের বাসিন্দারা।
করেরহাট ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কাশেম কালা বলেন, আমার ৭৫ বছর বয়সে এমন বন্যা দেখিনি। এবার এ এলাকার মানুষ ভয়াবহ বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যার পানি মেনে যাওয়ার পর এখন নদী ভাঙন মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভাঙনরোধে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করছি।
শীঘ্রই সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিরসরাই উপজেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা আবদুল কাদের।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন বলেন, নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখনই ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বিলীন হতে পারে শত শত বসতঘর ও ফসলি জমি এমনটাই আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মিরসরাইয়ে বন্যার পানি নামার সাথে সাথে তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ১১টি ইউনিয়ন। পানিবন্দী ছিল প্রায় দুই লাখ মানুষ। বিশেষ করে ফেনী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার...



