বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) প্রথম বর্ষের ছাত্র সৌরভ ইসলাম অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তাই সৌরভকে নিয়ে পরিবারের দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই।
ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে সৌরভের ডান পায়ের হাঁটু ভেদ করে চলে যায় পুলিশের ছোড়া একটি বুলেট। আজ আহত সৌরভ শুধু অর্থের অভাবে সুচিকিৎসা করাতে পারছেন না। ঢাকায় চিকিৎসার জোগান দিতে না পেরে পরিবার তাকে গত ১৭ আগস্ট ঢাকার হাসপাতাল থেকে রংপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফের তাকে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের একটি হাসপাতালে কর্মরত বড় ভাইয়ের কাছে চিকিৎসার জন্য আনা হয়।
সৌরভ বলেন, ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় আন্দোলনে ছিলাম। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুলিশের সাথে থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকে। আর আমরা ইটপাটকেল ছুড়ে তাদেরকে প্রতিহতের চেষ্টা করছিলাম। আমাদের মিছিলের সামনে থাকা প্রায় সবাই গুলিবিদ্ধ হয়। আমি ছিলাম মিছিলের দ্বিতীয় সারিতে। এক সময় আমার ডান পায়ের হাঁটুতে গুলি লাগে। বুলেটটি এপাশ-ওপাশ হয়ে বেরিয়ে যায়।
আমি অচেতন হয়ে পড়ে যাই। গুরুতর অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরপুর শেওড়াপাড়ার আল হেলাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে আমাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে না নিয়ে ইবনে সিনায় নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ পঙ্গু হাসপাতালে নেয়ার রাস্তাটি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকেরা পাহারা বসিয়েছিল। এমনকি ইবনে সিনার সামনেও ছাত্রলীগের সদস্যরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছি এমন মিথ্যা বলে ছাত্র পরিচয় লুকিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হই। তারপরেও ছাত্রলীগের ছেলেরা বারবার হাসপাতালে ঢুকে আমার ব্যাপারে যাচাই করতে থাকে।
চিকিৎসক জানান, আমাকে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হবে। কয়েক লাখ টাকার প্রয়োজন। মধ্যবিত্ত পরিবার আমাদের। এত টাকা জোগাড় করতে না পারায় অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই, প্রচণ্ড ব্যথা ও যন্ত্রণা নিয়ে অনেক কষ্টে বাড়িতে চলে আসি।
সৌরভের বাবা ওসমান গণি বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছি। বর্তমানে আমার আর সামর্থ্য নেই। প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার ছেলের মতো যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে কিংবা বাড়িতে যন্ত্রণায় কষ্ট করছে তাদের যেন সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পুনর্বাসন করা হয়। ছেলের পায়ে রিং পড়ানো হয়েছে। বাড়িতে নিয়ে এসেছি। অসহ্য ব্যথা মুখ বুজে সহ্য করছে, কিন্তু আমাদের কাউকে কিছু বলছে না। চিকিৎসক জানিয়েছে বিদেশে চিকিৎসা করালে তাড়াতাড়ি সৌরভ সুস্থ হয়ে উঠবে। বাবা হয়ে আমার আফসোসের শেষ নেই।
পাটগ্রাম সরকারি হসপিটালের চিকিৎসক জহির উদ্দিন বাবর জানান, সৌরভের পায়ের হাড়ের ভেতর ফ্যাকচার হওয়ায় দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠতে বেশ সময় লাগবে।