অবহেলা আর অনিয়মে জর্জরিত লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল। ১০০-২৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও বৃদ্ধি পায়নি জনবল। আগের জনবল নিয়েই চলছে এ হাসপাতাল বেড়েছে ভোগান্তি পরিপূর্ণ চিকিৎসা পাচ্ছে না রোগীরা। লালমনিরহাটের হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন আসে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালের বেহাল দশায় মিলছে না চিকিৎসা, রোগী এলেই রংপুর মেডিক্যাল রেফার করেন কর্তব্যরত ডাক্তার।
চিকিৎসা নিতে আসা জোবেদা খাতুন জানান, গতকাল এসেছিলাম সকাল আটটায় ডাক্তার দেখাতে পারিনি, আজ এখনো ডাক্তার আসেননি, জানি না আজও দেখাতে পারব নাকি ফেরত যেতে হবে। আমরা গরিব মানুষ বাইরে ডাক্তার দেখাবার সামর্থ্য নেই। বয়স্ক আরেক রোগী জানান, লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে আমি আরো বেশি অসুস্থ হয়ে গিয়েছি। একটু বিশ্রাম নিয়ে বাড়িতে চলে যাবো।
লালমনিরহাট প্রায় ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ হচ্ছে না সঠিক চিকিৎসা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধা ও গর্ভবতী নারীরা বেশি ভোগান্তিতে পরছে। সেই সাথে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরে জীবাণু ও মশা মাছির উপদ্রব বাড়ছে। বেড না পাওয়ায় আবাসিক রোগীরা থাকছে মেঝেতে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সামিরা জানান, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু হাসপাতাল ২৫০ শয্যা হলেও বাড়েনি জনবল। এ অল্প জনবল নিয়ে এত রোগীকে সামলানো কঠিন।
জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আব্দুল মোকাদ্দেম জানান আমাদের প্রধান সমস্যাই হলো জনবল সংকট। মোট ডাক্তারের পদ আছে ৪১টি তার মধ্য ২২টি পদই শূন্য, সেবা তত্ত্বাবধায়কের একটি পদ তাও শূন্য,স্টাফ নার্সের ৬টি পদ শূন্য, মিডওয়াইফের ৬টি পদের ৬টিই শূন্য এবং অন্যান্য কর্মচারীর মোট ১৭টি পদ শূন্য আছে।
তিনি আরো জানান প্রতিদিন ১৩ শ’-১৪ শ’ রোগী আসেন। বহিঃবিভাগ ও জরুরি বিভাগে শতাধিক রোগী আসেন। এ স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে আমাদের জন্য চিকিৎসসেবা দেয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। জনবল সঙ্কট নিয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক। প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।