লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী হাতীবান্ধা মডেল কলেজের ৩৭ শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানা গেছে, ২০০৪ সালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলাধীন টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব বেজগ্রাম এলাকায় অধ্যাপক মো: ইউনুস আলীর উদ্যোগে হাতীবান্ধা মডেল কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৫ সালে পাঠদান অনুমতি এবং ২০০৯ সালে কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করেন। তবে দীর্ঘ ১৮ বছর পর গত বছর জানুয়ারি মাসে কলেজটি এমপিও করা হয়। এরপর এমপিওভুক্তি নীতিমালা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর এমপিও কোড প্রদান করে।
কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্নে তৎকালীন সরকারের শিল্পমন্ত্রী মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ডিও লেটারের মাধ্যমে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর কলেজটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এজন্য তিনি নুরুজ্জামান এবং হোসেন মোহাম্মাদ নওশাদকে অধ্যক্ষ হিসেবে ডিও লেটার প্রদান করেন। যাদের সনদ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এমপিকে এসব কাজে সহযোগিতা করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, ঢাকার সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩, বেসরকারি) তপন কুমার দাস। সেই থেকে তপনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চারবার অধিদফতরের শুনানির পরেও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি বেতনের ব্যবস্থা হয়নি। ফলে ৩৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী বছরের পর বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইউনুস আলী বলেন, ২০১৫ সালে কলেজটি দখলে নিতে সাবেক এমপির ছেলে মাহামুদুল হাসান সোহাগ আমার বাসায় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আক্রমণ করেছিল। হাসিনা সরকারের পতনের পরেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন না হওয়ায় এলাকাবাসীসহ কলেজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ভীষণভাবে মানসিক দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তাই হাতীবান্ধা মডেল কলেজের সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



