মৌলভীবাজারের রাজনগরে গুলিবিদ্ধ ইউপি চেয়ারম্যান নিহত হওয়ার ঘটনায় বিগত এক মাস ধরে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাত গ্রামের মানুষ। বন্ধ রয়েছে এলাকার হাটবাজার। গ্রামের মানুষের মাঝে নেই স্বাভাবিক চলাফেরাও।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, সংঘর্ষ এড়াতে প্রথমে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল হাটবাজার। উভয়পক্ষকে নিয়ে চেষ্টা চলছিল মীমাংসায় আসার। তবে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এখনো সম্ভব হয়ে উঠছে না।
যদিও উপজেলা প্রশাসন বলছে, বাজার বন্ধ করা হয়নি। তবে লোকজন কেন বাজারে আসছে না সে বিষয়টি দেখা হবে।
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের মধুর বাজারে গত ৯ আগস্টের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন স্থানীয় চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ছানা। এর পর থেকে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বন্ধ হয়ে যায় এলাকার মানুষের কোলাহল। ঘটনার পর থেকে জমছে না বাজার, খুলছে না দোকানপাট। সরেজমিন দেখা গেছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে রয়েছেন রক্তা, খালদারপার, কেওলা, শারমপুর, ঢেউরবন্দ, নয়াগাঁও, মুখাসূতা গ্রামের মানুষজন।
কথা হয় রক্তা গ্রামের মধুর দোকানের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সর্দন বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষ আমি বাজারে একটি গলিতে বসে ব্যবসা করি। এ পয়সা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চালাতে হয়। কিন্তু গত এক মাস ধরে বাজারে যেতে পারছি না। ব্যবসা একেবারে বন্ধ। ব্যবসা নেই, জমানো পুঁজি খরচ হয়ে যাচ্ছে। বড় কষ্টে আছি।
মধুর বাজারের ব্যবসায়ী ছমির মিয়া বলেন, বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নিহত হওয়ার পর থেকে দোকানপাট বন্ধ। সে কারণে আমার দোকানটিও বন্ধ রয়েছে। আয় রোজগার নেই। শারমপুর গ্রামের মারুত আহমদ বলেন, স্থানীয় মধুর বাজার বন্ধ থাকায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে বাজার করে আসতে হয়।
পাঁচগাও ইউনিয়নের সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুবেল আহমদ বলেন, সংঘর্ষ এড়াতে প্রথমে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল হাটবাজার। উভয় পক্ষকে নিয়ে চেষ্টা চলছে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে। সংঘর্ষের শঙ্কা রয়েছে। তাই, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। আশা রাখি কিছু দিনের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।



