অপরিকল্পিতভাবে মাছের খামার গড়ে তোলায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে দুইশ’ একর জমি গত আট বছর ধরে অনাবাদি অবস্থায় রয়েছে। অথচ স্থানীয় কৃষি বিভাগ বিষয়টির খোঁজ নেয়নি কোনোদিনও। প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ভুক্তভোগী কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েন। সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হকের ছেলের বন্ধু পরিচয়ে স্থানীয় সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে এ অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসীরা। জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন, লিখিত অভিযোগ দেন কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ীর ইউনিয়নের বাদামিয়া গ্রামের।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের বাদামিয়া গ্রামের আইত্তাকুড়ি ও হিংরাকুড়ি বিলের পানি খিরু নদী পথে নেমে যেত। ২০১৭ সালের দিকে বাদামিয়া এলাকায় একশ’ একর জমিতে মাছের খামার করেন সাজ্জাদ হোসেন (লালন) নামের এক ব্যক্তি। তিনি একই ইউনিয়নের অলহরি খারহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদ্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হকের ছেলের বন্ধু পরিচয়ে এ দাম্ভিকতা দেখান। এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে অন্তত ৭০ একর জমি লিজ নিয়ে এবং নিজের ক্রয়কৃত জমিতে মাছের খামারটি শুরু করেন তিনি। মাছের খামার করার কারণে বিল এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় দুইশ’ একর জমিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। প্রতিকার চেয়ে ২০১৭ সাল থেকে প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধরণা দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি ভুক্তভোগী জমির মালিকদের।
দুইশ’ একর জমিই ছিল ধান উৎপাদনের জন্য নিবেদিত ভূমি। যেখান থেকে প্রতি সিজনে দেড় কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়ে থাকতো।

এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী শতাধিক কৃষক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন, বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে অভিযোগও দিয়েছেন।
উপজেলা শহরের কাছাকাছি দুইশ’ একর জমি জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে থাকলেও এ খবর রাখেনি স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তাদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগও।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মৎস্য খামারের মালিক সাজ্জাদ হোসেন (লালন) জানান, খাল খনন করা আছে। অভিযোগকারীরা সাথে থেকে যেভাবে করলে তাদের ভালো হয় তারা করতে পারেন। তা ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিলে আমারতো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। আমার সীমানায় যতটুকু আছে আমি আমার নিজ দায়িত্বে ওইটুকু করে দিব।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অতিদ্রুত সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।