কক্সবাজার সদর উপজেলা এবং উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গাসহ মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জন।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়। অপরদিকে উখিয়া উপজেলার ১৪ নম্বর হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজন মারা যায়।

গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতের পর কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডিককুল এলাকা এবং উখিয়া উপজেলার ১৪ নম্বর হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কক্সবাজার সদর দক্ষিণ ডিককুল এ মিজানুর রহমানের স্ত্রী আঁখি মনি (২১) এবং তার দুই শিশু মিহা জান্নাত নাঈমা (৫) ও লতিফা ইসলাম (১)। এ ছাড়া নিহত অপর তিনজন উখিয়ার ১৪ নম্বর হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-২ ব্লকের কবির আহমেদের ছেলে আব্দুর রহিম, আব্দুল হাফেজ ও আব্দুল ওয়াহেদ।
ঝিলংজা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, বৃহস্পতিবারের ভারী বর্ষণের সময় মিজানুর রহমানের বাড়ির ওপর বিকট শব্দে ধসে পড়ে পাহাড়। এতে গৃহকর্তাসহ পরিবারের চারজন মাটি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল থেকে মিজানুরকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও বাকি তিনজনকে ধসে পড়া মাটি সরিয়ে মৃত উদ্ধার করে।

স্থানীয় এ ইউপি সদস্য জানান, মিজানের বাড়িটি খাড়া পাহাড়ের পাদদেশে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে যায়। পরে মধ্যরাতে অব্যাহত আরো ভারী বর্ষণ শুরু হলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
এ দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কক্সবাজার সদরের ইউএনও নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘন্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪০১ মিলিমিটার। চলতি মৌসুমে এটি একদিনে সর্বোচ্চ
বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।