গাজায় গণহত্যা বন্ধে মুসলিম উম্মাহকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তর অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেছেন, আগস্ট বিপ্লব ও অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে এবারের ঈদ আগের তুলনায় খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ‍জুন) ঢাকার সাভারের মামুন কমিনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা শাখা আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর শাহিনুর ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ বি এম কামাল হোসাইন, মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি হাসান মাহবুব মাস্টার, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান জীম, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: তৌহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ মো: লুৎফর রহমান, ইমদাদুল হক ও সাভার পৌর আমির আজিজুর রহমান প্রমুখ।

ড. মাদানী বলেন, ‘আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদের পতন হলেও পরিপূর্ণ বিজয় এখনো আসেনি বরং পতিতদের প্রতিভূরা দেশকে অস্থিতিশীল করে অর্জিত বিজয় বিতর্কিত, নস্যাৎ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য নানাবিধ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। সঙ্গত কারণেই দেশে এখনো লাগামহীন চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় ইতিবাচক হলেও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। স্বৈরাচারের পতনের পর অর্থনীতিতে গতি ফিরে এলেও এখনো তা মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মূলত, অতীতে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া ও সুশাসনের অভাবেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণেই এবারের ঈদ অন্য বারের তুলনায় স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তাই জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে এজন্য কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতি গঠনে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।’

তিনি বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহ যখন ঈদুল আজহার উদযাপন করছে তখন গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, গত ৯ জুন ইসরাইলি দখলদাররা অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। জায়নবাদীদের হামলা প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত হচ্ছে অধিকৃত গাজার জনপদ। মূলত, গাজায় উপর্যুপরি হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে পুরো নগরীই এখন ধ্বংসস্তুপ ও মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। অথচ জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ঘাতক বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এমতাবস্থায় গাজাবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় বিশ্ব মুসলিমকে ঘরে বসে থাকলে চলবে না বরং বর্বর বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

তিনি গাজায় গণহত্যা বন্ধে মুসলিম উম্মাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।