দীর্ঘ ১৮ বছর পর নিজ জন্মভূমি হাটহাজারীর বাথুয়া গ্রামে আসছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় তিনি দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করবেন এবং গ্রামবাসীর সাথে কুশল বিনিময় করবেন।
আগামী বুধবার (১৪ মে) বিকেলে তিনি তার পৈতৃক ভিটায় পা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই খবরে তার নিজ গ্রাম শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়াসহ পুরো হাটহাজারীতে বইছে আনন্দের বন্যা। এলাকার কৃতি সন্তান ও বিশ্ববরেণ্য এই ব্যক্তিত্বকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজন। একইসাথে চলছে প্রশাসনিক জোর প্রস্তুতি।
জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বুধবার সকালে চট্টগ্রামে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে তিনি তার পৈতৃক গ্রাম বাথুয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন। গ্রামে পৌঁছে তিনি প্রথমে হাজী মোহাম্মদ নজু মিঞা সওদাগর বাড়ির কাছে নুরালী বাড়ি উপ-ডাকঘর সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর পার্শ্ববর্তী মাঠে তিনি নিকটাত্মীয় ও এলাকাবাসীর সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী আবু তালেব নয়া দিগন্তকে জানান, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ২০০৬ সালের দিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সর্বশেষ নিজ গ্রামে এসেছিলেন। গত ৪/৫ বছর আগে একবার চট্টগ্রাম শহরে এলেও গ্রামে আসতে পারেননি। এবার যখন গ্রামে আসছেন তিনি তখন দেশের সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তাই এবার তার আগমনকে ঘিরে সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ড. ইউনূসের এই আগমনকে ঘিরে তার আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। তার চাচাতো ভাই শেখ হারুন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের সন্তান, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় ১৮ বছর পর তার পৈতৃক বাড়িতে আসছেন। এটি শুধু আমাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। এতদিন পর আমরা তাকে কাছে পাবো, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
এদিকে ড. ইউনূসের আগমন উপলক্ষে শুধু গ্রামবাসীই নয়, উপজেলা প্রশাসনও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তার পৈতৃক নিবাস হাজী মোহাম্মদ দুলা মিয়া সওদাগর বাড়ির সংযোগ সড়কটির সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। নুরালী বাড়ি উপ-ডাকঘর সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে চুনকাম করা হয়েছে। যে মাঠে তিনি এলাকাবাসীর সাথে মিলিত হবেন, সে মাঠটিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার বাবার পৈতৃক বাড়ি হাজী মোহাম্মদ দুলা মিয়া সওদাগর বাড়িতেও চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ, যেখানে উপজেলা ও পৌরসভা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ বি এম মশিউজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, ‘আগামী ১৪ মে বিকেলে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের গ্রামের বাড়িতে আগমন এবং দাদা-দাদির কবর জিয়ারতসহ নিকটাত্মীয় ও এলাকাবাসীর সাথে কুশল বিনিময়ের কথা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ গ্রামে ড. ইউনূসের এটাই প্রথম সফর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গ্রামের মাটিতে তার পদার্পণকে ঘিরে তাই এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও সীমাহীন আবেগ।






