বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, গাজীপুরে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের পরিবারের পাশে থাকবে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট। তুহিনের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের জন্য ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা হবে। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্পতম সময়ে শেষ করতে হবে। বিচারহীনতার কারণেই সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে দুর্বৃত্ত চক্রের কালো হাত গুড়িয়ে দেয়া সম্ভব। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনে ৬১ জন সাংবাদিক হত্যা এবং সাড়ে তিন হাজার সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। হাসিনা সরকার সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনকে এক ধরনের বৈধতা দিয়েছিল। ভিন্নমতের সংবাদমাধ্যম বন্ধ ও সম্পাদক-সাংবাদিক নিপীড়ন নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিনত হয়েছিল। এখন আর সাংবাদিক নিপীড়নে রাষ্ট্রীয় আস্কারা নেই। হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এম আবদুল্লাহ আরো বলেন, সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা আইন শিগগিরই অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে। এ আইনে সাংবাদিকদের শারীরিক ও আর্থিক নিরাপত্তায় অনেকগুলো ভালো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি দায়িত্বের বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি। তা না হলে এ সুরক্ষা টেকসই না-ও হতে পারে।
সোমবার রাতে ফেনী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ফেনী সংবাদ পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পত্রিকাটির পুনপ্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ফেনী সংবাদ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা মুহিতের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমান।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান ও সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহিম, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহের ও এ কেএম আব্দুর রহিম, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন, ছাত্র শিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল, গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম সুজন, এনসিপির জেলা সংগঠক শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও ফেনী পৌর প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এনামূল হক খন্দকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: ইসমাইল হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার আল আমিন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম চৌধুরী, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক ফেনী সদর উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ এম মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার মানিক, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সহ-সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা মুজাফফর আহমদ জাফরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



