রংপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাড়িতে হামলা এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) আহ্বায়ক ও অপর ছয়জনসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের নামে হত্যাচেষ্টা এবং সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অপরাধের অভিযোগে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এসময় এজাহার গ্রহণ করা-না করা নিয়ে ওসির রুমে সামান্য হট্টগোল হয় নেতাকর্মীদের সাথে।
শুক্রবার (৩০ মে) রাত সোয়া ১১টায় রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আরিফ আলি বাদি হয়ে এই এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা ২২ জনের মধ্যে মহানগর বৈছাআ আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, সাবেক মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকার, যুগ্ম সদস্য সচিব রাজিবুজ্জামান হৃদয়, সদস্য সীমান্ত হোসেনসহ সাতজন এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান সুমনসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, ‘বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্ত নামোল্লিখিত ও অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা হাতে ধারলো ছোড়া, ককটেল, কাটারাইফেল, পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল স্লোগান দিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্য পরস্পর যোগসাজসে স্কাইভিউ বাসভবনে হামলা চালায়। বাসভবনের সামনে থাকা মিলনের মোটরসাইকেলে পেট্রোল ছিটিয়ে গানপাউডার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও পাঁচটি মোটরসাইকেলের ক্ষতিসাধন করে। এছাড়াও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে জি এম কাদেরের শয়নকক্ষের গ্লাস ভাংচুর করে। আসামিরা অস্ত্রসস্ত্র প্রদর্শন করে ব্যাপক মব সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।’
মামলায় আরো বলা হয়, জি এম কাদেরের পিএস আবু তৈয়বকে হত্যার উদ্দেশে কাটা রাইফেল দিয়ে গুলি ছুড়লে তা লক্ষভ্রষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
মামলায় বলা হয়, ‘আসামিরা ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও তার পিএস আবু তৈয়বকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়ে গোলাগুলি করে সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গুরুতর অপরাধ করেছেন।’
এর আগে ১০টায় জাতীয় পার্টির জেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম মিলন চৌধুরী, ছাত্রসমাজের জেলা আহ্বায়ক আরিফ হোসেন ও মহানগর আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামসহ ১০/১৫ জন নেতাকর্মী ওসির রুমে যান। এসময় এজাহার নেয়া-না নেয়া এবং রিসিভ কপি দেয়া-না দেয়া নিয়ে ওসির সাথে বিতণ্ডা হয় নেতাকর্মীদের সাথে। পরে এজাহার গ্রহণ করলে নেতাকর্মীরা থানা থেকে বেরিয়ে যান।
এজাহার দায়ের শেষে বাদি আরিফ আলী জানান, ‘প্রথমে ওসি সাহেব এজাহার গ্রহণ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি এজাহার নেন। আমরা যে এজাহার করেছি তাতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রকৃতপক্ষে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল তাদের ২২ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও সোস্যাল মিডিয়ার লাইভ ও ভিডিও ফুটেজ দেখে। তাদের নাম আমরা এজাহারে উল্লেখ করেছি। সেই সাথে ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামার নাম দিয়েছি। আমরা চাই, মামলা রেকর্ড করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। যদি সেটা করা না হয় তাহলে আমরা দলগতভাবে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
এ ব্যাপারে আরপিএমপি কোতয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ‘এজাহার গ্রহণ করা-না করা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব হয়নি। এটা ওনাদের বোঝার ভুল। কারণ মামলায় এজাহারের রিসিভ কপি করে দেয়া হয় না। তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা জি এম কাদের সাহেবের বাসায় হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি এজাহার দিয়েছেন। আমরা সরেজমিন তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে রংপুর সফরে আসেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি তার পৈত্রিক নিবাস নগরীর সেনপাড়ার স্কাইভিউয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তার দলের সাথে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর রাত সাড়ে ৮টায় জি এম কাদেরকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মিছিলটি গ্রান্ড হোটেল মোড়ে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সেনপাড়ায় স্কাইভিউ অভিমুখে রওনা দেয়। অভিযোগ, ওই মিছিল থেকে স্কাইভিউতে হামলা করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জি এম কাদের। এসময় সেখানে নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় একটি মোটরসাইকেল, বিস্ফোরণ ঘটানো হয় ককটেলের। স্কাইভিউয়ের কয়েকটি জানালার থাই ভাংচুর এবং দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।






