ফেনী শহরের জয়নাল হাজারী কলেজে দীর্ঘদিনের রাজনীতি-মুক্ত পরিবেশে সম্প্রতি ছাত্র রাজনীতি চালুর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও অধ্যক্ষ বরাবর লিখিতভাবে ক্যাম্পাসে সকল প্রকার দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শেষে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি দেন।

এ সময় কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহফুজ, মহিনুল পাটোয়ারী, রিয়াজ উদ্দিন ফোরকান ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দিন সাহেদ, ফয়সাল আহমেদ মজুমদার প্রমুখ অংশ নেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জয়নাল হাজারী কলেজে শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছিল। কিন্তু সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক সংগঠন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে এবং কমিটি ঘোষণার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে কলেজের নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন, কলেজের অফিসিয়াল প্যাডে বিবৃতি দিয়ে গোপন ও প্রকাশ্য সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, ১১ আগস্টের ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, ঘটনার বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সংশয় দূর করতে হবে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে, নচেৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজনীতি-মুক্ত এই কলেজে গত ১১ আগস্ট জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রার্থিতা ফরম বিতরণের মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। এ ঘটনায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ‘আমাদের কলেজে রাজনীতি ছিল না বলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের সান্ত্বনা বিরাজ করত। কিন্তু দীর্ঘ ৩২ বছর পর রাজনীতি চালুর চেষ্টা আমরা মেনে নেব না। আমরা চাই এ কলেজটি শিক্ষার্থী-বান্ধব ও অরাজনৈতিক পরিবেশে চলুক। রাজনীতি বন্ধের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।’

কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘এ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। তারা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা জানিয়েছিল। পরে শুনেছি ছাত্রদল সদস্য ফরম বিতরণ করেছে। ইতোমধ্যে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আলোচনা করেছি। গভর্নিং বডির সদস্যদের সাথে আলোচনার পর দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ করতে পারব বলে আশা করছি। আমরা কলেজটি রাজনীতি-মুক্ত রাখতে সচেষ্ট থাকব।’