সিলেট বিভাগে হামের লক্ষ্মণ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মাস বয়সী সাইদুল ইসলাম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৭১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৭ জন সন্দেহজনক রোগী।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শিশু সাইদুল ইসলাম সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হওয়া ৭১ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৩ জন, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে চারজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চারজন ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৯৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১৭ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯৬ জন, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ১৫ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে আটজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩১ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নয়জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৫ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৫৭ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে পাঁচজন, হবিগঞ্জে তিনজন এবং সুনামগঞ্জে দুইজন।

সবশেষ হিসাবে, বিভাগে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১৪৫ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। আর সন্দেহজনক হাম বা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১৩৫ জনের।

জেলাভিত্তিক হিসাবে এখন পর্যন্ত সিলেটে ৫৬ জন, হবিগঞ্জে ১৯ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যায় এখনো সুনামগঞ্জ শীর্ষে রয়েছে।

একদিনের ব্যবধানে বিভাগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। ফলে সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে।