রাজশাহীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরজেপি টেক অলিম্পিয়া-২০২৫ এর বিভাগীয় ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে বাছাইকৃত সেরা ২০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগের সবচেয়ে বড় এই প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিচালিত আইসিটি ক্লাব রাজশাহী জুনিয়র প্রোগ্রামার্সের (আরজেপি) উদ্যোগে এবং আই.ট্রিপলি রাবি’র সহযোগিতায় এই অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।

আরজেপি টেক অলিম্পিয়া-২০২৫-এর প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা মজার বিভিন্ন প্রশ্ন করে জিতে নেয় পুরস্কার।

তথ্যপ্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়তে চাওয়ার পরামর্শ থেকে শুরু করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং প্রোগ্রামিং নিয়ে শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ ছিল ব্যাপক। প্রযুক্তি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মাদকের বিরুদ্ধে শপথ নেয়।

মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর রাজশাহী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও আরজেপি সভাপতি তারেক আবরারের উপস্থাপনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডীন প্রফেসর ড. বিমল কুমার প্রামাণিক। অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হালিদা হোমায়রা, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপঙ্কর দাস, অধ্যাপক ড. মির্জা রাশেদুল হাসান, রুয়েটের সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজমাইন ইয়াক্বীন সৃজন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর রাজশাহীর উপপরিচালক মো: লোকমান হোসেন, জেলা প্রশাসক রাজশাহীর প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার মো: মাহফুজুর রহমান, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিআইআর বিভাগের রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ তামিম এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের লেকচারার অয়ন সরকার।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘হাইস্কুল শিক্ষার্থীদেরকে অধ্যাবসায় ও আগ্রহের মাধ্যমে প্রযুক্তি চর্চা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘এখন সবার হাতেই প্রযুক্তি এবং এগুলোর সঠিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শেখাতে অভিভাবকদের সচেতন পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

আরজেপি’র এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি যাত্রাকে অগ্রগামী করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মত দেন অতিথিরা। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরজেপি সভাপতি তারেক আবরার বলেন, স্বেচ্ছাসেবী কাজের অংশ হিসেবে আরজেপি যেমন স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও প্রোগ্রামিং শেখাচ্ছে; এই শিক্ষার্থীরাও যেন একদিন বড় হয়ে এই ক্রমধারা চালু রাখে।

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে আরজেপি টেক অলিম্পিয়া-২০২৫-এ অংশ নেয়া সেরা ২০০ বিভাগীয় প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ৫০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং মেডেল, সার্টিফিকেট ও টিশার্ট প্রদান করা হয়।

রাজশাহী বিভাগের সেরা এই ৫০ শিক্ষার্থী চলতি মাসের ২৯ ও ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী আরজেপি গ্র্যান্ড ক্যাম্প ও ওয়ার্কশপে অংশ নেবে।

আরজেপি’র এই আয়োজনে টেকনিক্যাল পার্টনার হিসেবে ছিল আইটিব্রিজ একাডেমি। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল জেলা প্রশাসন রাজশাহী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর রাজশাহী, পোলার আইসক্রিম, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বাংলাদেশ, জেনন একাডেমি, রেটিনা রাজশাহী ও অরবিটাল।