ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজাদুল ইসলাম হাই ওরফে পান্নুর (৭২) আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ৮ জানুয়ারি নবাবগঞ্জের বাড়ি থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে বের হন তিনি। রাজশাহীতে পৌঁছানোর পর এখনো বাসায় ফিরেননি তিনি। তার মোবাইলেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো সংযোগ পাচ্ছে না পরিবার।
এ ঘটনায় আগামী বুধবার (১৯ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তার সন্ধান চেয়ে নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) পান্নুর ছেলে সিহাব তমাল নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
সিহাব তমাল জানান, ৮ জানুয়ারি ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশে গ্রামের বাড়ি দেওতলা থেকে বের হন তার বাবা আজাদুল ইসলাম হাই পান্নু। ৯ তারিখের মধ্যে বাসা ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সাথে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত ১০ জানুয়ারি পান্নুর ছেলে সিহাব তমাল নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পান্নুর পরিবার আতঙ্কে দিন পার করছেন।
সিহাব তমাল বলেন, বাবা রাজশাহী পৌঁছেছেন এ বিষয়ে আমরা অনেকটাই নিশ্চিত। কিছুদিন ধরে তার বাবা রাজনীতিসহ বিভিন্ন কারণে মনক্ষুণ্ন ছিলেন। তার বাবা আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক মামলায় বেশ কয়েকবার কারাগারেও ছিলেন। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার আগে ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম বলেন, ‘সভাপতির নিখোঁজের বিষয়ে আমরাও খুব উদ্বিগ্ন। তিনি খুব সরল প্রকৃতির মানুষ। একজন স্বচ্ছ শিক্ষিত ও মার্জিত রাজনৈতিক নেতা। তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রু আছে বলে আমাদের বিশ্বাস হয় না। খুব দ্রুত প্রশাসন তার সন্ধান করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মমিনুল ইসলাম বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি রাজশাহী যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন। তবে জিডি হওয়ার পর থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধারের বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’



