বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য মীর্জা আব্বাস বলেছেন, ‘পৃথিবীর মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ যারা পানিকে মারণাস্ত্র-যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। বিগত সময়ে হাসিনার চামচামি সরকারের কারণে তিস্তায় পানি আসেনি। গণআন্দোলনের মাধ্যমেই তিস্তায় পানি নিশ্চিত করা হবে।’
রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে রংপুর মহানগরীর শাপল চত্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু এবং তিস্তার পানি ন্যায্য হিস্যার দাবিতে গণপদযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেক আগেই আমরা এ পানির হিস্যা আদায় করতে পারতাম। যদি হাসিনার মতো একটা চামচা সরকার বাংলাদেশে না আসতো। পানি নিয়ে তারা কোনোদিনও কথা বলে নাই। আমরা বখশিশ কিংবা ভিক্ষা চাই না। আমরা হিসাবের পাওনা চাই। আমাদের হিসাবের পাওনা আজকে না হোক কাল, কাল না হোক পরশু ভারতকে দিতে হবে। না দেয়া পর্যন্ত শুরু হওয়া এ আন্দোলন থামবে না।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে গুম করা হলো, হত্যা করা হলো। শুধু সুরমার পানি নিয়ে কথা বলার কারণে। তিস্তার পানি নিয়ে দুলু কথা বলেছে। দুলুও যেন সাবধান থাকে। কারণ ভারত কখনো এ ধরনের প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না। দুলু উত্তরবঙ্গের একটা প্রতিবাদি মুখ। তার নেতৃত্বে অহিংস প্রতিবাদ হচ্ছে। সারা বিশ্বের সামনে এ দাবি তুলে ধরা হলো। আমি মনে করি, পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে এ দাবি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে যে ভারত পানি বন্ধ করে পানির অভাব দিয়ে আমাদের কিভাবে কষ্ট দিচ্ছে। কিভাবে আমাদের মরুভূমিতে রুপান্তরিত করেছে। সব হিস্যা ভারতের কাছে থেকে আদায় করা কবে।’
তিনি বলেন, ‘এ পানি নিয়ে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ স:-এর দৌহিত্রকে কষ্ট দেয়া হয়েছিল। তিনি শাহাদত বরণ করেছিলেন। শুধু তিস্তা নয় সারা বাংলাদেশের ৫৪টি নদীর অভিন্ন পানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। তারা তিস্তা বন্ধ করেছে, ফারাক্কা বন্ধ করেছে, সুরমা-কুশিয়ারা বন্ধ করেছে। সব অভিন্ন নদীর পানি তারা বন্ধ করেছে।’
এদিকে অনুষ্ঠিত গণপদযাত্রায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরে বিকেল ৪টার আগেই হাজারো মানুষের উপিস্থিতিতে সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের উপস্থিত ছড়িয়ে পড়ে লালবাগ রোড, স্টেশন রোড, জাহাজ কোম্পানি রোড, টার্মিনাল রোডে।
‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে অংশ নেয় জনতারা। সমাবেশে তিস্তায় ক্ষত-বিক্ষত জীবন-জীবিকা ও আন্দোলন নিয়ে একটি ডকুমেন্টরি উপস্থাপন করা হয়। পরে শুরু হয় গণপদযাত্রা। সাথে প্রতিবাদ ও তিস্তা পাড়ের গান। শাপলা থেকে গ্রান্ড হোটেল মোড়, জাহাজ কোম্পানি মোড়, সুপার মার্কেট, নগর ভবন, কাচারী বাজার হয়ে গণপদযাত্রা শেষ হয় জিলা স্কুল মাঠে। তখনো শাপলা চত্বর পর্যন্ত ঠাসা ছিল মানুষে। পদযাত্রায় বাড়তি আকর্ষণ ছিল তিস্তা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
অংশগ্রহণকারীদের দাবি, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ এ সরকারের আমলেই শুরু করতে হবে। এর কোনো বিকল্প তারা চান না। একইসাথে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে হলেও তিস্তার পানি ভারতের কাছ থেকে আদায় করতে সরকারের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।
আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক, রংপুর মহানগর আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ পাঁচ জেলার নেতৃরা। সঞ্চালনা করেন রংপুর মহানগর সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন ও জেলা সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু।
এর আগে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনে তিস্তা অববাহিকার দুই পাড়ে একই দাবিতে ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ৪৮ ঘণ্টার লাগাতর কর্মসূচি পালন করেছিল তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন।






