জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নে যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ তিনজন যাত্রীর মধ্যে দু’জনের লাশ উদ্ধার হলেও এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে যমুনা নদীর বেলগাছা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিখোঁজ সেলিমের লাশ ভেসে ওঠে।

নিহত সেলিমের সাবেক বাড়ি কুলকান্দি ইউনিয়নের আটিয়ামারী গ্রামে। ভিটাবাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হওয়ায় বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলতলীতে পরিবারপরিজন নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার নৌকাডুবির পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে বিল্লাল মন্ডল (৫০) নামে একজনের লাশ উদ্ধার করে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে যমুনা নদীর কুলকান্দি পাইলিং ঘাট থেকে ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি খেয়া নৌকা ছেড়ে যায়। নৌকাটি মাঝ নদীতে পৌঁছার পর মাঝিদের গাফিলতির কারণে ডুবে যায়।

এসময় স্থানীয় অন্য একটি নৌকা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্য যাত্রীদের উদ্ধার করলেও নিখোঁজ হয় বিল্লাল মন্ডল (৫০), সেলিম (৪৫) ও খবির উদ্দিন (৪৫) নামের তিন যাত্রী।

পরে স্থানীয় লোকজন ও ইসলামপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ৪-৫ ঘন্টা চেষ্টা করে বিল্লাল মন্ডলের লাশ উদ্ধার করলেও নিখোঁজ রয়ে যায় সেলিম ও খবির উদ্দিন। তাদের লাশ উদ্ধারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ফায়ার সার্ভিস। সন্ধ্যায় অন্ধকার নেমে আসলে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

এদিকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে যমুনা নদীর বেলগাছা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিখোঁজ সেলিমের লাশ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা সেলিমের লাশ উদ্ধার করে। নিহত সেলিমের সাবেক বাড়ি কুলকান্দি ইউনিয়নের আটিয়ামারী গ্রামে। ভিটাবাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হওয়ায় বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলতলী এলাকায় পরিবারপরিজন নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

কুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সেলিম ও বিল্লাল মন্ডলের লাশ উদ্ধার হলেও এখনো হতভাগ্য খবির উদ্দিনের কোনো সন্ধান মেলেনি। সে কুলকান্দি পাইলিং পাড় এলাকার খটটু সেখের ছেলে।’

এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার ওসি মো: সাইফুল্লাহ সাইফ জানান, যমুনা নদীর কুলকান্দি (হার্ডপয়েন্ট) ঘাট থেকে নদীর চরাঞ্চলে কৃষি কাজ করার জন্য কিছু মানুষ খেয়া নৌকা দিয়ে যমুনা নদী পার হওয়ার সময় মাঝ নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ হয়। নিখোঁজদের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দু’জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নৌকার মাঝিদের গাফিলতির কারণে শান্ত নদীতে এ নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।‘

বেঁচে ফেরা একাধিক যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘নৌকায় অনেক পানি ছিলো। মাঝিরা নৌকার পানি না সেচার জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’