দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করান জন্য চীন সামুদ্রিক মিলিশিয়া বাহিনী ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন দ্বীপ ও বিতর্কিত সমুদ্সীরমার ওপর কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এ মিলিশিয়া বাহিনী কাজ করছে। শুক্রবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর গবেষণা অনুসারে, চীন সামুদ্রিক মিলিশিয়া বাহিনীর তিন শ’র বেশি জাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে নজরদারি করে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন দ্বীপ ও বিতর্কিত জলসীমার ওপর কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এ মিলিশিয়া বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর অভিমত, বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ ও মাছ ধরার জাহাজের সমন্বয়ে এ সামুদ্রিক মিলিশিয়া বাহিনী গঠিত। এ মিলিশিয়া বাহিনীর একমাত্র কাজ হলো চীনের বিতর্তিক দাবি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। চীনের দাবি সমগ্র দক্ষিণ চীন সাগরই হলো তাদের।
এদিকে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই আর তাইওয়ানও এ দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর তাদের মালিকানা দাবি করছে। যদিও বিভিন্ন কৃত্রিম দ্বীপ, পোতাশ্রয়, বিমানবন্দর ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এ দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে চীন।
চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৯৫০ সালে এ সামুদ্রিক মিলিশিয়া বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭০ সালে ভিয়েতনামের কাছ থেকে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় চীন। ওই সময় এ সামুদ্রিক মিলিশিয়া বাহিনীকে জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ ও সংস্কারে সাহায্য করে চীন। চীন এ সামুদ্রিক মিলিশিয়া বাহিনীর যাবতীয় খরচ বহন করে। এ সামুদ্রিক মিলিশিয়া বাহিনী বিভিন্ন বিদেশী নৌযানকে ধাক্কা দিয়ে, তাদের সোনার অ্যারে কেড়ে নিয়ে, এ নৌযানগুলোর ওপর পানিকামান দিয়ে আক্রমণ করে, তাদের যাত্রাপথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধক ছুড়ে ও অন্যান্য খারাপ আচারণ করার মাধ্যমে ওই বিদেশী নৌযানগুলোকে চীনের দাবিকৃত সামুদ্রিক অঞ্চলে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
সূত্র : আল-জাজিরা






