পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, পাকিস্তান চায় আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হোক। শনিবার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাথে এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাশ্চত্যের 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের' ভুক্তভোগী হলেও এবং আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ও প্রস্থানের বিষয়ে অজ্ঞাত থাকলেও পাকিস্তান চায় আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশীদার হতে।

শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, 'পাকিস্তান সকলের সমন্বয় চায়। শুধু তালেবানের সাথেই নয়, বরং পুরো আফগান নেতৃত্বের সাথেই যুক্ত আছে পাকিস্তান।'

তিনি আরো বলেন, 'আমরা যেনো ৯০ দশকের ভুল আর না করি। আমরা সামনে আগাতে চাই। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল আফগানিস্তান।'

১৯৯৬-২০০১ সালে তালেবানের প্রথম আমলে আফগানিস্তানকে যে তিনটি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছিল তার মধ্যে পাকিস্তান ছিলো একটি। পরে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আগ্রাসন শুরু করলে তালেবান সরকারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে দেশটি।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকার পিছু হটে।

তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলে দেশটিতে।

দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

এই বছরের মে মাসে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এপ্রিলে এক ঘোষণায় ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা জানান। পরে জুলাই সময়সীমা আরো কমিয়ে এনে ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।

মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের সাথে তালেবানের সমঝোতায় আসার কথা থাকলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। সমঝোতায় না পৌঁছানোর জেরে তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করে।

৬ আগস্ট প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী যারানজ দখল করে তারা। যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবান যোদ্ধারা।

সূত্র : আলজাজিরা