পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির অন্যতম প্রধান বিরোধী দল মুসলিম লীগ (নওয়াজ) নেতা নওয়াজ শরিফের পাকিস্তানে ফেরার বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই ও দলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফ এই তথ্য অস্বীকার করেছেন।

শনিবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার গুজব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে শাহবাজ শরিফ বলেন, সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নওয়াজ দেশে ফিরবেন না।

বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন, ব্রিটেনে অবস্থানের জন্য নওয়াজের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাখ্যানের জেরে দেশটির ইমিগ্রেশন ট্রাইবুনালে তার আপিলের বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ পর্যন্ত তিনি অবস্থান করবেন।

এর আগে গত আগস্টে ব্রিটেনে নওয়াজ শরিফের অবস্থানের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দেশটির ইমিগ্রেশন ট্রাইবুনালে আপিল আবেদন করেছেন নওয়াজ শরিফ।

শাহবাজ শরিফ তার ব্ক্তব্যে জানান, পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর এবং লন্ডনের ডাক্তাররা তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দিলেই নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানে আসবেন।

তবে এই বিষয়ে নওয়াজ শরিফের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তানে ফেরার খবরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী চৌধুরী ফাওয়াদ হুসেইন বলেন, যারা নওয়াজের দেশে ফেরার জন্য কোনো চুক্তির প্রতীক্ষা করছেন, তারা রাজনৈতিকভাবে বামনই থেকে যাবেন।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনারা পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়। আলো উদ্ভাসিত হলে অন্ধকার কেটে যায় এবং পাকিস্তানেও তাই হয়েছে।’

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাহবাজ গিল বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক কারণে দেশে ফিরছেন না বরং তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে ব্রিটেন থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য নওয়াজ শরিফকে ব্রিটেনে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিলো এবং বিমানবন্দরে নামার পর তাকে সোজা জেলখানায় পাঠানো হবে।

ড. শাহবাজ গিল বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তার ফেরার গল্প প্রচার করা হচ্ছে।

২০১৮ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এক দুর্নীতি মামলায় নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। কারাগারে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক অবস্থা বিবেচনা করে ইসলামাবাদের হাইকোর্ট ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাকে জামিন দেন। জামিনে মুক্তির পর নওয়াজ চিকিৎসার জন্য ব্রিটেনে যান। ২০২০ সালের মার্চে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজকে চিকিৎসার জন্য ছয় সপ্তাহের জামিন দেন। কিন্তু এর মধ্যে দেশে ফিরে না আসায় তার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ইসলামাবাদের হাইকোর্ট নওয়াজ শরিফকে ফেরারি হিসেবে ঘোষণা করে।

সূত্র : জিও নিউজ